তেহরানে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউট তাদের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন উপস্থাপন করে। এই উদ্ভাবনগুলো ইরানের চিকিৎসা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্ভাবনগুলো হলো:
১. গ্যালিয়াম-৬৮ (Gallium-68): এটি একটি ডায়াগনস্টিক রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল, যা মূলত মেটাস্ট্যাটিক মেলানোমা (এক ধরনের ত্বকের ক্যানসার) শনাক্তকরণে ব্যবহৃত হবে।
২. লুটেটিয়াম-১৭৭ (Lutetium-177): এটি একটি থেরাপিউটিক রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল, যা বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার চিকিৎসায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
৩. স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা যন্ত্র: এটি হাড়ের ব্যথা নিরাময়ের জন্য সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে চিকিৎসা প্রদান করবে।
অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয় ইরানের জাতীয় পারমাণবিক নেটওয়ার্ক (National Nuclear Network)। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই নেটওয়ার্ক চালুর মূল লক্ষ্য হলো দেশের পারমাণবিক গবেষণার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় জোরদার করা।
ইরান পারমাণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ এসলামী এই সাফল্যের ওপর জোর দিয়ে জানান, সংস্থাটির বর্তমান একমাত্র অগ্রাধিকার হলো উদ্ভাবন ও গবেষণার ধারণাগুলোকে দ্রুত বাস্তব ব্যবহারের উপযোগী পণ্যে রূপান্তরিত করা। তিনি বলেন, ২০২৩ সালে যেখানে ইরান ৫০টি রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছিল, বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০টিতে এবং আরও ২০টি রেডিওফার্মাসিউটিক্যাল বর্তমানে গবেষণাধীন রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চিকিৎসা খাতে ইরানের এই অগ্রগতি দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরশীলতাকে আরও সুসংহত করবে।
ডেস্ক রিপোর্ট