পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বেনিনে একদল সৈন্য রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ক্ষমতা দখলের দাবি জানালেও, প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিস তালনের অনুগত সশস্ত্র বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সেই সামরিক অভ্যুত্থানচেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে। রোববার কর্নেল টিগ্রি পাস্কালের নেতৃত্বে একটি সামরিক কমিটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত, সংবিধান স্থগিত এবং সীমান্ত বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলাসানে সাইদু এই ব্যর্থতার খবর নিশ্চিত করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওলুশেগুন আজাদি জানান, সৈন্যরা একটি "ছোট দল" ছিল, এবং ক্ষমতাসীন বাহিনী পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এই ঘটনায় দেশের অর্থনৈতিক কেন্দ্র কটোনুর কিছু অংশে গুলির শব্দ শোনা যায়, যা দেশটিতে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভ্যুত্থানের চেষ্টা শুরুর পর রোববার সকালে দেশটির অর্থনৈতিক কেন্দ্র কটোনুর বিভিন্ন এলাকায় গুলির শব্দ শোনা যায়। পরিস্থিতির তীব্রতা আঁচ করে ফরাসি দূতাবাস ফেসবুকে তাদের নাগরিকদের ঘরে থাকার পরামর্শ দেয়। অভ্যুত্থানকারী সৈন্যরা উত্তর বেনিনের উদ্বেগজনক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সম্প্রতি জঙ্গি হামলার বৃদ্ধিকে তাদের ক্ষমতা দখলের কারণ হিসেবে তুলে ধরেছিল। উল্লেখ্য, এই অঞ্চলে জঙ্গিবাদ প্রতিবেশী মালি ও বুরকিনা ফাসোতেও অস্থিরতা বাড়াচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলাসানে সাইদু জনগণকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওলুশেগুন আজাদি বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেন যে, এটি ছিল সৈন্যদের একটি ক্ষুদ্র দলের বেপরোয়া চেষ্টা, যা প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিস তালনের প্রতি অনুগত বাহিনী সফলভাবে থামিয়ে দিয়েছে।
এই অভ্যুত্থানচেষ্টা এমন এক সময়ে ঘটল যখন বেনিন এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০১৬ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট তালন আগামী নির্বাচনে তাঁর দায়িত্ব শেষ করবেন এবং ক্ষমতাসীন জোট থেকে অর্থমন্ত্রী রোমুয়াল্ড ওয়াদাগনিকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত মাসে চালু হওয়া নতুন সংবিধান প্রেসিডেন্টের মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে সাত বছর করেছে, যা সমালোচকদের মতে ক্ষমতাসীন জোটের ক্ষমতা ধরে রাখার কৌশল।
সূত্র: রয়টার্স
ডেস্ক রিপোর্ট