ইসরায়েলে ট্রিপল অ্যাটাক: পুনর্গঠন স্থবির, বাজেট কাট ও ভয়াবহ মেধাপাচার! কেন টলছে নেতানিয়াহুর ভিত?
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ০১-১২-২০২৫ ০১:২৪:৫৮ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০১-১২-২০২৫ ০১:২৪:৫৮ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৩৭ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পাঁচ মাস পর ইসরায়েল এখন অভ্যন্তরীণ তিনটি বড় কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি—পুনর্গঠন কার্যক্রমে স্থবিরতা, বিতর্কিত বাজেট কাটছাঁট এবং মেধাপাচারের বিপজ্জনক ঊর্ধ্বগতি। এই ত্রিমুখী সংকট দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক সংহতি এবং ভবিষ্যতের সক্ষমতার ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে। সরকার ঘোষিত ধ্বংস হওয়া বাড়িঘর পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা রাজনৈতিক কোন্দলের শিকার হয়ে অনুমোদনের মুখ দেখছে না, অন্যদিকে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত ৯১৮ মিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন কর্মসূচি বাতিলের বিতর্ক বাজেট পাসকে আটকে দিয়েছে। এরই মধ্যে তরুণ ও উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবীদের ব্যাপক হারে দেশত্যাগ, বিশেষত চিকিৎসক ও প্রযুক্তি কর্মীদের, কর রাজস্বে বড় ধরনের ক্ষতি করছে এবং ইসরায়েলের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
এই সময়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার এক জটিল অভ্যন্তরীণ ঘূর্ণিপাকের মধ্যে পড়েছে।
সরকার কর্তৃক শতাধিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পুনর্নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হলেও, অতি-অর্থোডক্স দলগুলোর সঙ্গে ক্ষমতাসীন জোটের তীব্র রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে এ-সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোর অনুমোদন আটকে আছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেছেন, যেখানে ক্ষয়ক্ষতির মোট পরিমাণ আনুমানিক $১.৫৩ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু সরকারি অচলাবস্থা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জেরে হাইফা থেকে শুরু করে অন্যান্য অঞ্চলের বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন যে পুনর্গঠনের কাজ পুরোপুরি থেমে গেছে। এই স্থবিরতা কেবল ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে না, বরং সরকারের উপর সাধারণ জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ করছে।
ইসরায়েলি পার্লামেন্টে (নেসেট) সর্বশেষ অধিবেশনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয় মন্ত্রী মাই গোলানের একটি প্রস্তাব ঘিরে। প্রস্তাবে ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের শিক্ষা, অবকাঠামো ও আবাসন বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যে বরাদ্দকৃত ৯১৮ মিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন কর্মসূচি বাতিলের কথা বলা হয়েছে। বিরোধীরা এর তীব্র সমালোচনা করে এটিকে 'সমতার অধিকারে আঘাত' এবং 'প্রকাশ্য দিবালোকে চুরি' বলে আখ্যা দিয়েছেন। এই উত্তপ্ত বিতর্কের কারণে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বাজেট পাস হওয়ার প্রক্রিয়া থমকে আছে, যা দেশের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে অর্থ বরাদ্দ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে।
অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ইসরায়েলি নাগরিক দেশ ত্যাগ করেছেন, যার একটি বড় অংশই হলো তরুণ, উচ্চশিক্ষিত এবং অত্যন্ত দক্ষ পেশাজীবী। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, দেশ ছাড়ার এই তালিকায় রয়েছেন প্রায় ৯০০ জন চিকিৎসক, ১৯,০০০-এর বেশি ডিগ্রিধারী পেশাজীবী এবং ৮,০০০-এর বেশি প্রযুক্তি কর্মী। এই ব্যাপক হারে দক্ষ জনশক্তির প্রস্থান কেবল সামাজিক উদ্বেগের কারণ নয়, এর সরাসরি অর্থনৈতিক প্রভাবও সুদূরপ্রসারী। ইসরায়েল ইতোমধ্যে শুধু কর রাজস্ব হারিয়েই প্রায় $৪৫৯ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এই পরিস্থিতি একটি দুষ্টচক্র সৃষ্টি করছে—রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের সমাধান করতে গিয়ে মেধাবী নাগরিকরা দেশ ছাড়ছেন, যা আবার দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও সামাজিক সংহতিকে আরও দুর্বল করে তুলছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।