এশিয়ায় শক্তি-ভারসাম্য টলছে: সামরিক ব্যবধান দ্রুত কমিয়ে আনছে চীন, চাপে যুক্তরাষ্ট্র!
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ০১-১২-২০২৫ ০১:০৫:১৭ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০১-১২-২০২৫ ০১:০৫:১৭ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৫১ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষস্থানীয় থিঙ্ক ট্যাঙ্ক লোউই ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামরিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র আর চীনের মধ্যে ব্যবধান নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে, যা আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পালাবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একসময় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিকভাবে এগিয়ে থাকার যে সুবিধা ছিল, তা এখন মাত্র দুই-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে এবং চীন সেই ব্যবধান দ্রুত কমিয়ে আনছে। শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে ২০৪৯ সালের মধ্যে "বিশ্বমানের সামরিক শক্তি" হওয়ার সুস্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে চীন তার সমুদ্র ও আকাশ শক্তি, লং-রেঞ্জ স্ট্রাইক সিস্টেম এবং বিশেষ করে 'এরিয়া-ডিনায়াল' প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। এই কৌশলগত সামরিক অগ্রগতি তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে কোনো সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপকে আরও কঠিন করে তোলার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমে আসার বিপরীতে চীনের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
বেইজিং তার সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সুনির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগের পথ বেছে নিয়েছে। চীনের মনোযোগ এখন এমন প্রযুক্তির দিকে, যা তাদের আঞ্চলিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং সম্ভাব্য বিরোধীদের (যেমন যুক্তরাষ্ট্র) কার্যকরভাবে প্রতিহত করতে পারে। বিশেষত 'এরিয়া-ডিনায়াল' (Area-Denial) সক্ষমতা—যা সামরিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে প্রবেশ বা কাজ করাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে—তাতে চীনের অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই সামরিক আধুনিকীকরণ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সেই কৌশলগত লক্ষ্যের অংশ, যার মাধ্যমে চীনকে ২০৪৯ সালের মধ্যে বৈশ্বিক সামরিক মানদণ্ডে শীর্ষে নিয়ে যাওয়া হবে।
এই বিনিয়োগের ফলে তাইওয়ান প্রণালী ও দক্ষিণ চীন সাগরে, যেখানে ফিলিপাইনের সঙ্গে উত্তেজনা চলছে, সেখানে সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের ঝুঁকি এবং খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে।
চীন যখন সুনির্দিষ্ট সামরিক কৌশলের ওপর ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের সঙ্গে যৌথ মহড়া, অস্ত্র সরবরাহ এবং সামরিক উপস্থিতি বাড়ালেও বিশেষজ্ঞদের মতে তাদের সামগ্রিক কৌশলে এখনও যথেষ্ট স্পষ্টতার অভাব রয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিকে তাদের সামরিক শক্তি এবং প্রভাব বজায় রাখার জন্য একটি সমন্বিত ও কার্যকর কৌশল প্রণয়নে ব্যর্থতা এখন সমালোচনার মুখে। বিশেষ করে তাইওয়ান প্রণালী এবং দক্ষিণ চীন সাগরের মতো সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে যেখানে আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অস্পষ্টতা আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে একটি দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। লোউই ইনস্টিটিউটের এই বিশ্লেষণ নিশ্চিত করছে যে এশিয়ার নিরাপত্তা স্থাপত্যে একটি বিশাল পরিবর্তন আসছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য প্রশ্নবিদ্ধ এবং চীনের চ্যালেঞ্জ ক্রমশ বাড়ছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।