ট্রাম্প নিজেই নিশ্চিত করেছেন আজ শুক্রবার ওভাল অফিসে এ বৈঠক হবে। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন—মামদানি তাঁর কাছে সাক্ষাতের অনুরোধ জানিয়েছেন, এবং “পরবর্তী বিবরণ আসছে।” ট্রাম্পের সেই পোস্টে মামদানির ‘কওম’–সহ পুরো নাম উল্লেখ করাও নজর কাড়ে—যা তাঁর রাজনৈতিক খোঁচা দেওয়ার আগ্রহকেই যেন আবার মনে করিয়ে দেয়।
মামদানির মুখপাত্র ডোরা পেকেক জানান, নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচিত হলে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করা একটি আনুষ্ঠানিকতা। বৈঠকে জননিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং নিউইয়র্কবাসীর ভোট দেওয়া ‘সামর্থ্যের এজেন্ডা’ নিয়ে আলোচনা হবে বলে তিনি ধারণা দেন।
ট্রাম্প বিগত কয়েক মাস ধরে মামদানিকে ‘কমিউনিস্ট’ বলে ভুলভাবে পরিচিত করানো, শহর ধ্বংস হবে বলে সতর্ক করা, এমনকি তাঁকে দেশ থেকে বহিষ্কারের হুমকিও দিয়েছেন। নিউইয়র্কের ফেডারেল তহবিল আটকে দেওয়ার কথাও বলেছেন। কিন্তু এসব আক্রমণই শেষ পর্যন্ত উল্টো ‘বুমেরাং’ হয়—নভেম্বরের নির্বাচনে নিউইয়র্ক ইতিহাসের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে জয়ের মাধ্যমে মামদানি নিজেই সেই প্রচারণাকে ব্যঙ্গ করেন। অভিষেক ভাষণে তাঁর তির্যক মন্তব্য—“ভলিউমটা একটু বাড়িয়ে নিন”—ট্রাম্পের উদ্দেশেই ছোড়া ছিল।
নির্বাচনের আগে জাতীয় রাজনীতিতে তেমন পরিচিত না থাকা ৩৪ বছরের মামদানি শপথ নেবেন আগামী ১ জানুয়ারি। ট্রাম্প নিজেও বলেছেন, দুজনের সম্পর্ক নিয়ে তাঁদের “কিছু একটা সমাধান করতে হবে।” অন্যদিকে মামদানির বক্তব্য—তিনি চান নিউইয়র্ক পুরো দেশকে দেখাক, কীভাবে একটি শহর প্রেসিডেন্টের বিরোধিতা করেও সঠিক পথে এগোতে পারে।
ওভাল অফিসের বৈঠকটি হয়তো আনুষ্ঠানিক, কিন্তু রাজনৈতিক সংকেতগুলো মোটেই আনুষ্ঠানিক নয়। এটি দেখার বিষয়—শহরের নতুন মেয়র ও প্রেসিডেন্টের এই মুখোমুখি সাক্ষাৎ ভবিষ্যতে নিউইয়র্ক–ফেডারেল সম্পর্ককে কোন দিকে নিয়ে যায়।
ডেস্ক রিপোর্ট