ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ফিরলেও গাজার উপর বিমানহামলা চালিয়ে নিহত হয়েছে কমপক্ষে দু’জন, তেলআবিব বলছে লক্ষ্য ছিল অস্ত্রাগার ধ্বংস। মঙ্গলবার রাতে রাফায় সংঘর্ষ ও এক ইসরায়েলি সেনার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তেলআবিবের নির্দেশেই দিনভর করা অভিযানে একদিনে গাজায় প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়ায় ১০৪–এ, পরে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় চুক্তিভঙ্গের জবাবে উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় আবারও বোমাবর্ষণ চালানো হয় বলে সংবাদসংস্থাগুলি জানিয়েছে।
উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় বুধবার (২৯ অক্টোবর) আইডিএফের লাগাতার বোমাবর্ষণের ফলে কমপক্ষে দুইজন নিহত হন—বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রতিশ্রুত। ইসরায়েলি সামরিক সূত্র দাবি করেছে, ওই হামলার লক্ষ্য ছিল হামাস বা অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর অস্ত্রাগার এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত স্থাপনা ধ্বংস করা।
এই ঘটনার আগে মঙ্গলবার রাতে দক্ষিণ গাজার রাফায় গোলাগুলিতে এক ইসরায়েলি সেনার মৃত্যুর খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ উপত্যকায় ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ওই অভিযানে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে দিনভর অন্তত ১০৪ জন প্যালেস্তিনীয় প্রাণ হারিয়েছেন। পরে তেলআবিব জানিয়েছে, মার্কিন মধ্যস্ততায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘিত হওয়ায় তারা ‘ডজন ডজন’ সন্ত্রাসী উপকেন্দ্র ও সন্ত্রাসীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
হামাসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, রাফায় নিহত ইসরায়েলি সৈন্য ও চুক্তিভঙ্গকে দায়ী করা হয়েছে তাদের ওপর; তবে একই সঙ্গে হামাস বলেছেন, নতুন বোমাবর্ষণের সঙ্গে তাদের কোনও সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই এবং তারা ইসরায়েলের চুক্তি দুর্বল করার চেষ্টা হিসেবে ঘটনাকেই দেখছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধবিরতিকে অনিঘ্ন রাখতে সব কিছুই করা উচিত, কিন্তু ইসরায়েলের সৈন্যদের লক্ষ্যবস্তু করা হলে “প্রতিঘাত” করা উচিত—এই মন্তব্য পরিস্থিতির রাজনৈতিক ব্যয় ও ভবিষ্যৎ কূটনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি রক্ষার প্রচেষ্টা চলমান থাকলেও মাঠের লড়াই ও আঘাতের ধরন পরিস্থিতিকে অস্থির রাখছে, যার প্রভাব সশস্ত্র ও বেসামরিক উভয় অংশে পড়ছে।
(সূত্র: বিবিসি)
যুদ্ধবিরতি থাকাকালেও গাজায় ইসরায়েলের হওয়া হামলা; বেইত লাহিয়ায় নিহত, রাফায় দিনের হতাহত ১০৪
- আপলোড সময় : ৩০-১০-২০২৫ ০৯:৩২:৩৩ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ৩০-১০-২০২৫ ০৯:৩২:৩৩ পূর্বাহ্ন
ছবি সংগৃহীত
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট