ভোররাতে আকস্মিক বিমান হামলার মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ‘বৃহৎ পরিসরের সামরিক অভিযান’ চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, আর এই অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে দেশটির বাইরে নিয়ে যাওয়ার দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প বলছেন, মাদক পাচার, অবৈধ অভিবাসন ও ‘নার্কো–সন্ত্রাসবাদ’ দমনে পরিচালিত দীর্ঘমেয়াদি অভিযানের অংশ হিসেবেই এই আঘাত হানা হয়েছে, তবে কারাকাস সরকারের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলার তেলসহ প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিতেই ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
শনিবার ভোরে কারাকাসের বাসিন্দারা একের পর এক বিস্ফোরণ আর নিচু দিয়ে উড়ে যাওয়া যুদ্ধবিমানের শব্দে ঘুম ভাঙার কথা জানান, যার কিছু দৃশ্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতেও ধরা পড়ে। একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় বৃহৎ আকারের হামলা চালিয়েছে এবং বিশেষ অভিযানে মাদুরো দম্পতিকে গ্রেফতার করে মার্কিন আইনের আওতায় নিতে তাদের দেশ থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে; শিগগিরই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে সংবাদ সম্মেলন করার কথাও তিনি জানিয়েছেন।
ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, কোকেনসহ মাদক পাচারের গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুটে পরিণত হয়েছে ভেনেজুয়েলা এবং এর সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি অপরাধী নেটওয়ার্ককে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যাদের একটির নেতৃত্বে মাদুরো নিজেই আছেন বলে অভিযোগ করা হয়। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের জেরে লাখো মানুষ দেশ ছাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে অভিবাসন চাপ বেড়েছে এবং মাদুরো সরকারের নীতি সেই সংকটকে আরও তীব্র করেছে, যদিও কারাকাস এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে ভেনেজুয়েলা সরকার বলছে, বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভূখণ্ডের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে এবং ‘বহিঃশত্রুজনিত অস্থিরতা’র অজুহাতে সরকার পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে চাইছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন নৌ ও বিমান শক্তি বৃদ্ধি, তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ এবং কথিত মাদকবাহী নৌযানে একের পর এক হামলাকে এই বৃহৎ অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা, যদিও মাদুরো আগেই মাদক ও অভিবাসন ইস্যুতে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রকে সংলাপে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নার্কো–সন্ত্রাসবাদ’ ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়; কয়েক বছর ধরে তার গ্রেফতারে বড় অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে এবং সাম্প্রতিক হামলাকে সেই দীর্ঘ চাপ প্রয়োগ নীতির সামরিক পরিণতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মাদুরোর দাবি, সব অভিযোগের পেছনে আসল লক্ষ্য হচ্ছে তেলসমৃদ্ধ এই দক্ষিণ আমেরিকান দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ, আর এ কারণে ওয়াশিংটন তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পথ খুঁজছে।
ডেস্ক রিপোর্ট