বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থান নিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জাতীয় স্থায়ী কমিটির শীর্ষ নেতারা। স্ত্রী ও কন্যাসহ তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানাতেই তারা বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে উপস্থিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে প্রবেশ করেন। সেখানে উপস্থিত রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খানসহ দলের সিনিয়র নেতারা। পাশাপাশি বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলসহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারাও সেখানে অবস্থান করছেন।
এদিকে তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সেখানে প্রায় এক ঘণ্টার গ্রাউন্ড টার্নঅ্যারাউন্ড শেষে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে ফ্লাইটটি।
বিমান সূত্র জানায়, লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২০২ ফ্লাইটে করে তারেক রহমান সপরিবারে দেশে ফেরেন। বোয়িং ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৯০০ উড়োজাহাজটি হিথ্রো–সিলেট–ঢাকা রুটে পরিচালিত হচ্ছে। ভিআইপি যাত্রী থাকার কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় বিশেষ নিরাপত্তা ও সমন্বয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ফ্লাইটে তারেক রহমানের জন্য নির্দিষ্টভাবে A1 সিট বরাদ্দ ছিল।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের সঙ্গে এই ফ্লাইটে আরও ছিলেন তার ব্যক্তিগত সচিব আব্দুর রহমান সানি, দলের প্রেস উইংয়ের সালেহ শিবলী, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের কামাল উদ্দীন, সৈয়দ মইনউদ্দিন আহমেদ ও তাবাসসুম ফারহানা।
শিডিউল অনুযায়ী, ফ্লাইটটি সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। সেখানে ভিআইপি লাউঞ্জে বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ফুল দিয়ে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাবেন। এরপর তিনি রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় (৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে) আয়োজিত গণসংবর্ধনায় অংশ নেবেন।
বিএনপি জানিয়েছে, সংবর্ধনাস্থলে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে তারেক রহমান সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেবেন। পরে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন। সেখান থেকে বিমানবন্দর সড়ক হয়ে কাকলী মোড় হয়ে গুলশান-২ নম্বরের বাসভবনে ফিরবেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় ১৮ মাস কারাবন্দী ছিলেন তারেক রহমান। মুক্তি পাওয়ার পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার উদ্দেশ্যে সপরিবারে লন্ডনে যান তিনি। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় দেশে ফেরা সম্ভব হয়নি। অবশেষে বহু বছরের অপেক্ষা শেষে তিনি প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরলেন।
ডেস্ক রিপোর্ট