নির্বাচনী ময়দানে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা থাকলেও আসন বণ্টন নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ১১ দলীয় জোটে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি, ফলে জোটের ভেতরে সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবারের মধ্যেই আসন সমঝোতার একটি চূড়ান্ত কাঠামো পাওয়া যেতে পারে। তবে মঙ্গলবার সারাদিন দফায় দফায় আলোচনা হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেষ সময়ে নতুন কয়েকটি দলের জোটে যুক্ত হওয়া এবং আসন বণ্টন নিয়ে বড় দুই শরিকের ভিন্ন অবস্থানই এই জটিলতার মূল কারণ।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে অসন্তোষের কথা তুলেছে। দলের নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, জোটের ভেতরে কোনো একটি দল এককভাবে সিদ্ধান্ত নিলে অন্য শরিকদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তিনি জানান, দলটির নির্বাচনী ফোরামের জরিপ অনুযায়ী তারা ১০০ থেকে ১৩০টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার সক্ষমতা দেখছে এবং সে অনুযায়ী একটি সম্মানজনক অংশ প্রত্যাশা করছে।
অন্যদিকে, জামায়াতের পক্ষ থেকে দূরত্ব তৈরির অভিযোগ নাকচ করা হয়েছে। জোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, শরিক দলের সংখ্যা বাড়ায় সীমিত আসনের মধ্যে ভারসাম্য আনা সময়সাপেক্ষ হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, এটি অসন্তোষ নয়; বরং প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে সমন্বয়ের একটি প্রক্রিয়া, যা দ্রুতই শেষ হবে।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী ৩০০ আসনের মধ্যে প্রায় ১৮০ থেকে ১৯০টি আসন নিজেদের জন্য রাখার প্রস্তাব দিয়েছে এবং বাকি আসনগুলো শরিকদের মধ্যে বণ্টনের কথা বলেছে। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনে করছে, তৃণমূল পর্যায়ের সাংগঠনিক শক্তি বিবেচনায় তাদের প্রাপ্য আসন আরও বেশি হওয়া উচিত।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষক দলও এই জোটের সমঝোতার অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। শেষ পর্যন্ত মতবিরোধ কাটিয়ে ১১ দলীয় জোট একটি অভিন্ন প্রার্থী তালিকা নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামতে পারবে কি না—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল ও আলোচনা বাড়ছে।
ডেস্ক রিপোর্ট