বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, পরিবেশ সংরক্ষণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আমূল সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, এসব খাতে কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে জনজীবনের মৌলিক সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় ৪০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, একটি জাতির ভিত্তি গড়ে ওঠে শক্তিশালী শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর। পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা ও যুবসমাজকে দুর্বল করার চেষ্টা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সেই পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা হবে।
তিনি জানান, প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থায় হাতে-কলমে ও কর্মসংস্থানমুখী পাঠ্যক্রম চালু করা হবে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, নৈতিক শিক্ষার বিস্তার এবং একাধিক ভাষা শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলে কম্পিউটার ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলীসহ প্রশিক্ষিত পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, প্রতিটি মহানগর ও জেলা শহরে বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের নারীদের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে মাসিক খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি, যা নারীর ক্ষমতায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন।
ঢাকা শহরের দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরোনো ও জরাজীর্ণ পাইপলাইন আধুনিকায়ন না করায় সমস্যা তীব্র হয়েছে। ভবিষ্যতে এই সংকটের স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচির আলোকে তিনি বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে শিশুদের জন্য খেলার মাঠ তৈরি এবং শিক্ষাক্রমে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা বাধ্যতামূলক করা হবে। পাশাপাশি যানজট নিরসনে এলাকাভিত্তিক সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ, বায়ুদূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বুড়িগঙ্গা নদী ও ঢাকার খালগুলো পুনরুদ্ধার করে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, পৃথক ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় জোর দেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সরকারিভাবে সম্মানী প্রদান এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের নেতাদের জন্য সমান সুবিধা নিশ্চিত করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
নারীর অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি কেন্দ্র পরিচালনা কমিটিতে ন্যূনতম ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ নারী অন্তর্ভুক্ত করা হবে। দেশের ভোটারের বড় অংশ নারী হলেও নেতৃত্বে তাদের অংশগ্রহণ কম—এই বাস্তবতা পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেন এবং একটি দোয়া মাহফিলে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেস্ক রিপোর্ট