ভারতে আশ্রয় নেওয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত তাঁর নিজের ওপর নির্ভর করে না, এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘জুলাই চেতনায় আলোকিত পেশাজীবীদের’ নতুন সংগঠন ন্যাশনাল প্রফেশনাল অ্যালায়েন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আখতার হোসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গে বলেন, “ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, শেখ হাসিনা ভারতে থাকবেন কি ফিরে যাবেন, সেটি তাঁর সিদ্ধান্ত। অথচ কোনো ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে কোনো রাষ্ট্র তার কূটনৈতিক অবস্থান নির্ধারণ করতে পারে না।”
তিনি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার কাছে দ্রুত হস্তান্তরের দাবি জানান।
বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীকে অস্ত্র প্রদর্শন ও প্রতিযোগিতার অভিযোগে সমালোচনা করে আখতার হোসেন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা থাকলেও, এসব দল এখন অস্ত্রের মহড়ায় নেমেছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই তারা কে আগে গুলি করবে সেই প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়া উচিত, তবে আওয়ামী লীগের মতো সশস্ত্র রাজনীতির পুনরাবৃত্তি কাম্য নয়। আখতার হোসেন মনে করিয়ে দেন, চব্বিশের অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলীয় বাহিনী জনগণের ওপর গুলি চালিয়েছিল, পরে সেই বাহিনীই ভারতে পালাতে বাধ্য হয়।
অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ভারতকে বলতে চাই, বাংলাদেশের নির্বাচনে গোলমাল করতে আসবেন না। পরে লেজ গুটিয়ে পালাতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ায় বিজেপির সন্ত্রাস রুখতে এনসিপি প্রস্তুত।”
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ভবিষ্যতে এনসিপি সরকারে এলে সপ্তাহে শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি কার্যকর করা হবে।
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন বলেন, “আমরা কারও কাছে আসন নিয়ে দরকষাকষি করব না। আসন বণ্টনের রাজনীতি এখন অতীত।”
অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল প্রফেশনাল অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক হিসেবে নাভিদ নওরোজ শাহ এবং সদস্যসচিব হিসেবে তৌহিদ হোসেন মজুমদারের নাম ঘোষণা করা হয়।
ডেস্ক রিপোর্ট