যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশকে পেশাদার বাণিজ্যিক লবিস্ট ফার্ম নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও নীতি বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং দেশের বর্তমান আর্থিক চাপের প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগবান্ধব বার্তা সঠিকভাবে আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরতে পেশাদার সহায়তা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য এবং দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সরকারের আর্থিক স্থিতি টেকসই করতে মার্কিন প্রশাসন ও ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর কাছে সুসংগঠিতভাবে দেশের সম্ভাবনা, ব্যবসাবান্ধব নিয়মকানুন ও উদার বিনিয়োগ পরিবেশ তুলে ধরতে হবে। এ কাজটি কার্যকরভাবে করতে পারে অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক লবিস্ট ফার্ম।
ম্যাক্সওয়েল স্ট্যাম্প এলএলসির প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নুরউদ্দিন আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশ বর্তমানে আর্থিক খাতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে। এ থেকে উত্তরণে অভিজ্ঞ কনসালট্যান্ট বা লবিস্ট ছাড়া উপায় নেই। যারা অন্য দেশগুলোকে সহায়তা দিয়েছে, তাদের দক্ষতা কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশও উপকৃত হবে।”
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে পররাষ্ট্র, বাণিজ্য ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ড ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে যৌথভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।
অর্থনীতিবিদ ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “লবিস্ট নিয়োগের সিদ্ধান্ত প্রধানত অর্থ মন্ত্রণালয় ও এক্সটার্নাল রিসোর্সেস ডিভিশনের। দেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তারা ওকালতি করবে। বিনিয়োগ বোর্ড, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, বিদেশে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোও লবিস্ট হিসেবে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়াতে রফতানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষ জনবল তৈরি, কর কাঠামো সহজীকরণ, বিনিয়োগবান্ধব নীতি উন্নয়ন এবং অভ্যন্তরীণ পরিবেশ স্থিতিশীল রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।
ডেস্ক রিপোর্ট