সম্প্রতি আরএসএফ দারফুরের কৌশলগত শহর আল ফাশেরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সহিংসতা আরও বিস্তৃত হয়। সেখানে গণহত্যা, লুটপাট, নির্যাতন ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধের নতুন প্রমাণ মিলছে। শুক্রবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের বিশেষ অধিবেশনে তুর্ক স্পষ্ট করে বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঘটনাবলি নিবিড়ভাবে অনুসরণ করছে এবং ন্যায়বিচার কোনোভাবে এড়ানো যাবে না।
যুক্তরাজ্যের অনুরোধ এবং জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও নরওয়ের সমর্থনে আহ্বান করা অধিবেশনে ২৩ সদস্য রাষ্ট্র এবং ৩১ পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র সমর্থন দেয়, যা সুদানের পরিস্থিতিতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের পথ সুগম করে। বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়—যার মাধ্যমে আল ফাশের দখলের সময় সংঘটিত সম্ভাব্য গণহত্যা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্তে একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন গঠন করা হবে। শহরটি ছিল পশ্চিম সুদানে এসএএফ-এর শেষ বড় ঘাঁটি।
এই মিশন হত্যাকাণ্ড, লুটপাট, নির্যাতন, ধর্ষণসহ সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক অপরাধের প্রমাণ সংগ্রহ করবে এবং দায়ীদের চিহ্নিত করবে। তুর্ক জানান, তাঁর কর্মীরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে যাওয়া বেসামরিকদের সাক্ষ্য সংগ্রহ করছেন এবং আরও দল মাঠে নামানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতও পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানান আল ফাশের ও আশপাশের অঞ্চল থেকে পালানো মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা—বিশেষত খাবার, পানি ও নিরাপত্তা—নিশ্চিত করতে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, আরএসএফ শহর দখলের পর অন্তত ৯০ হাজার মানুষ প্রাণ বাঁচাতে পালিয়েছে। টানা গোলাবর্ষণ ও স্থল আক্রমণের কারণে তারা খাবার, পানি বা চিকিৎসা ছাড়া বিপজ্জনক পথে যেতে বাধ্য হয়েছে। শহরের ভেতর এখনো হাজারো মানুষ আটকা রয়েছে; হাসপাতাল, বাজার, পানি সরবরাহ ব্যবস্থার পতনে তারা দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতিতে আছে।
জাতিসংঘের সুদান–বিষয়ক স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সদস্য মোনা রিশমাওয়ি জানান, আল ফাশেরের বড় অংশ এখন প্রকৃত অর্থেই ‘অপরাধস্থল’। প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও সংগৃহীত প্রমাণে হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, মুক্তিপণ আদায়ের জন্য অপহরণ, নির্বিচারে আটক ও গুমের মতো ভয়াবহ অপরাধ পরিষ্কারভাবে উঠে এসেছে।
জাতিসংঘ ইতিমধ্যে এসএএফ ও আরএসএফ—উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনেছে। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র সুদানের সেনাপ্রধান ও কার্যত রাষ্ট্রপ্রধান জেনারেল আব্দেল ফাত্তাহ আল-বুরহানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, যেখানে তিনি রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত হন।
ডেস্ক রিপোর্ট