ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাদের মহাসড়ক অবরোধ
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ০৫-১০-২০২৫ ০১:০৮:১০ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৫-১০-২০২৫ ০১:০৮:১০ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ৩৭ বার পঠিত
সীতাকুণ্ডে ২৫ কিমি যানজট, দুর্ভোগ
সীতাকুণ্ডে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে ৪০০ কর্মকর্তার চাকুরি ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছে ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তারা। শনিবার বেলা ১১টা থেকে তারা মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করায় গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে কমপক্ষে দীর্ঘ ২৫ কি.মি. যানজট সৃষ্টি হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন রোগীসহ হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। প্রথমে তারা একঘণ্টা মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে সারিবদ্ধভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করলেও পরে তারা সড়কে উঠে আসেন এবং প্রায় একঘণ্টা তারা সড়কে অবস্থান করেন। পরে পুলিশ এসে তাদেরকে বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল শুরু হয়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Kaler Diganta
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড সম্প্রতি তাদের ৪০০ কর্মকর্তাকে ‘অন্যায়’ভাবে চাকুরিচ্যুত করে। এছাড়া আরো সাড়ে ৫ হাজার কর্মকর্তাকে ওএসডি করে রাখে। চাকুরিচ্যুত এ কর্মকর্তারা তাদের বেতন পাচ্ছেন না। তাদের একাউন্ট ও এটিএম কার্ড লক করা হয়েছে। এতে করে পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে। ফলে বাধ্য হয়ে তারা শনিবার বেলা ১১টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ সংলগ্ন মহাসড়কের পাশে অবস্থান নিয়ে প্রথমে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এবং শেষে প্রায় এক ঘণ্টা ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে চাকুরি ফিরিয়ে দেয়ার দাবি করেন।
ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. এমদাদ হোসেন, কর্মকর্তা মোহাম্মদ হুমায়ন, আশরাফুল হক ও মুক্তার রশিদসহ আরো অনেকে অভিযোগ করে বলেন, হঠাৎ করে ইসলামী ব্যাংকের ৪০০ কর্মকর্তাকে চাকুরি থেকে ছাটাই করা হয়েছে। আরো সাড়ে ৫ হাজার জনকে ওএসডি করে রাখা হয়েছে। আমাদের একাউন্ট লক করে রাখা হয়েছে। আমাদের বেতন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এটিএম কার্ডও লক করে দেয়া হয়েছে। অথচ যাবতীয় নিয়ম মেনেই আমরা চাকুরি পেয়েছি। এখন আমাদেরকে স্বৈরাচারসহ নানান ট্যাগ দিয়ে নির্মম ব্যবহার করা হচ্ছে। যারা চাকুরিচ্যুত তারা সবাই চট্টগ্রামের বাসিন্দা। তাই মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছে আমরা সুবিচার প্রার্থনা করছি। চট্টগ্রামবাসীর প্রতি সুবিচার করে আমাদের চাকুরি ফিরিয়ে দেয়া হোক। অন্যথায় আমাদেরকে এভাবে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন হাজারো আন্দোলনকারী ব্যাংক কর্মকর্তা।
এদিকে টানা আন্দোলনে মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটের দক্ষিণে চট্টগ্রামের অলংকার থেকে উত্তরে কুমিরা পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ২৫ কিলোমিটার মহাসড়কে আটকা পড়ে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ নানান জরুরি পরিষেবা এবং অন্যান্য হাজার হাজার যানবাহন। সীতাকুণ্ডের এক বাসিন্দা মো. রবিউল হোসেন বলেন, তার এক আত্মীয় স্ট্রোক করে গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় তাকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে যাবার উদ্দেশ্যে পথে বের হয়ে অ্যাম্বুলেন্সসহ ভাটিয়ারী বিএম গেট এলাকায় তারা আটকে পড়েন। এতে প্রায় এক ঘণ্টা রোগীটি অ্যাম্বুলেন্সে বিনা চিকিৎসায় ছটপট করেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর কোনো ভাবে তারা ধীরে ধীরে চট্টগ্রামে পৌঁছান।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মজিবুর রহমান। তিনি বলেন, আমি এ ঘটনার খবর শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসেছি। অনেকক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের নানা ভাবে বোঝানো হয়েছে। এদিকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দিতে সীতাকুণ্ড সার্কেলের এডিশনাল এসপি লাবিব আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে থানা ও হাইওয়ে পুলিশ সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হন। লাবীব আব্দুল্লাহ বলেন, ব্যাংক কর্মকর্তারা মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। তাদের প্রায় এক ঘণ্টার অবরোধে সড়কে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ অসংখ্য গাড়ি আটকে পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হলে আমরা তাদেরকে রোগীদের ও সাধারণ মানুষের হয়রানির কথা বিবেচনা করে অবরোধ তুলে নিতে অনুরোধ করি। পরে তারা অবরোধ থেকে সরে আসলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।