কেন যাকাত দেওয়া উচিত?
যাকাত দেওয়া ইসলামে আল্লাহর আদেশ। এটি আমাদের ধন-সম্পদকে পবিত্র করে এবং দরিদ্র ও অসহায়দের সহায়তা নিশ্চিত করে।
কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন,
“আপনারা যে ধন রাখেন তার একটি অংশ দরিদ্রদের জন্য নির্ধারিত।” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৭৫)
“যাকাত দান করুন, যাতে আপনারা পবিত্র হন।” (সূরা আত-তাওবা, আয়াত ১০৬)
“যারা তাদের ধন-সম্পদের মধ্যে যাকাত প্রদান করে এবং রাতে ও দিনে আল্লাহর পথে ব্যয় করে, তাদের জন্য রয়েছে বড় পুরস্কার।” (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২৬১)
“যাকাত দিলে তুমি শুধু নিজের জন্য নয়, বরং সমাজের দরিদ্রদের জন্যও বরকত আনবে।” (সূরা মুমিনুন, আয়াত ৩৫)
হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“যে ব্যক্তি তার ধন থেকে যাকাত দান করে, আল্লাহ তা তার জন্য বরকত বৃদ্ধি করবেন এবং তার গুনাহ ক্ষমা করবেন।” (সহিহ বুখারী)
“যাকাত দিতে যা কিছু দান করা যায় তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য এবং তা ঈমানকে শক্তিশালী করে।” (সহিহ তিরমিজি)
“যে ব্যক্তি নিয়মিত যাকাত দেয়, আল্লাহ তার দুনিয়াজীবন ও পরকালের জীবনে সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা দান করবেন।” (সহিহ ইবনে মাজাহ)
যাকাতের হিসাব ও নিয়ম:
যাকাতের জন্য নির্দিষ্ট ধনসমূহ হলো নগদ অর্থ, সোনা, রূপা, ব্যবসার পুঁজি, ফসল এবং গবাদি পশু। সাধারণভাবে যাকাতের হার ২.৫% নির্ধারিত। যেমন, ব্যাংকে যদি কারো ১,০০,০০০ টাকা থাকে, তাহলে তার যাকাত হবে ২,৫০০ টাকা। এটি নিশ্চিত করে যে, ধন-সম্পদ শুদ্ধ এবং সমাজে দরিদ্রদের সহায়তা পৌঁছায়।
যাকাতের ফজিলত:
যাকাত শুধুমাত্র দান নয়; এটি গুনাহ ক্ষমার, ধন-সম্পদে বরকত আনবার এবং সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার একটি মাধ্যম। হাদিসে এসেছে,
“যাকাত আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল। এটি গুনাহ মোচন করে এবং ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে সমতা রক্ষা করে।” (সহীহ মুসলিম)
নিয়মিত যাকাত দান করা ব্যক্তি এবং পুরো সমাজকে অর্থনৈতিক ও নৈতিকভাবে শক্তিশালী করে।
পরিশেষে, ইসলামে যাকাত একটি ফরজ স্তম্ভ যা ব্যক্তি ও সমাজকে পবিত্র রাখে। এটি দরিদ্রদের সহায়তা নিশ্চিত করে, ধন-সম্পদে বরকত আনে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথপ্রদর্শক। প্রতিটি মুসলিমের জন্য নিয়মিত যাকাত দেওয়া অপরিহার্য, কারণ এটি আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্যতা ও বরকতের প্রধান কারণ।
ডেস্ক রিপোর্ট