হাজারো মুসল্লির চোখের পানিতে আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো ফুলবাড়ীয়ার নওমুসলিম মারকাজের ইজতেমা
মুফতি যুবায়ের আহমদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় তিন দিনব্যাপী দাওয়াতি ও তালিমি ইজতেমা সম্পন্ন, আগামী বছরের তারিখ ঘোষণা
- আপলোড সময় : ০৮-১১-২০২৬ ০৫:০৫:১২ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৮-১১-২০২৬ ০৫:৫৮:৫৬ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৯৬ বার পঠিত
ছবি: প্রতিনিধি
হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির কান্না, আকুতি ও মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনার মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় শেষ হয়েছে তিন দিনব্যাপী দাওয়াতি ও তালিমি ইজতেমা-২০২৬।
বিশ্বখ্যাত দাঈ হজরত মাওলানা কালিম সিদ্দিকী (দা.বা.)-এর বিশিষ্ট খলিফা ও উপমহাদেশের প্রখ্যাত দাঈ মুফতি যুবায়ের আহমদ হাফি. এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। ফুলবাড়ীয়া উপজেলার কুশখুলী বগা এলাকার মাহমুদনগর তালুকদার বাড়িসংলগ্ন নওমুসলিম মারকাজ দারুল উলুম মাহমুদিয়া মাহমুদনগর মাদ্রাসা মাঠে এ ইজতেমার আয়োজন করা হয়।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
ইজতেমায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।
ইজতেমায় অংশ নিতে নেত্রকোনা থেকে আসা এক মুসল্লি জানান, “আমরা নেত্রকোনা থেকে একটি জামাত নিয়ে এখানে এসেছি। আমি এবারই প্রথম এসেছি। ইজতেমায় নওমুসলিমদের এবং এখানকার পরিবেশ দেখে আমরা খুবই আনন্দিত ও উপকৃত হয়েছি।”
আয়োজকদের ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, “আয়োজকেরা আমাদের অনেক খেদমত করেছেন। সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। এ ছাড়া বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত শৌচাগারের সুব্যবস্থা ছিল। সব মিলিয়ে পরিবেশটি অত্যন্ত সুন্দর ছিল।”
আখেরি মোনাজাতে মুসল্লিরা নিজেদের গুনাহ মাফ, ঈমানের হেফাজত, হেদায়েত, দেশ ও জাতির শান্তি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন। এ সময় অনেক মুসল্লিকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। তাঁদের আবেগঘন প্রার্থনায় পুরো ইজতেমা ময়দানে এক হৃদয়স্পর্শী পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
তিন দিনব্যাপী এ ইজতেমায় দেশবরেণ্য আলেম ও দাঈদের বয়ান, দ্বীনি আলোচনা এবং আত্মশুদ্ধিমূলক নসিহত অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নিয়ে মুসল্লিরা দ্বীনি জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি আত্মশুদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা লাভ করেন।
ইজতেমার সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক প্রখ্যাত দাঈ মুফতি যুবায়ের আহমদ হাফি. বলেন, “এই মজলিসের সবচেয়ে বড় ফায়দা হলো—তিন দিন ধরে কোরআন ও দ্বীন শেখা, দোয়া, কান্নাকাটি এবং জিকির-আজকারের মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার সুযোগ পাওয়া। এখানে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে এমন অনেক মাসআলা-মাসায়েল শেখা যায়, যা সাধারণত প্রচলিত ওয়াজ মাহফিলে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয় না।”
আগামী দিনগুলোতেও এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আয়োজকেরা জানান, আগামী ১৮, ১৯ ও ২০ নভেম্বর ২০২৭ সালে আবারও দাওয়াতি ও তালিমি ইজতেমার আয়োজন করা হবে।
আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ইজতেমার কার্যক্রম শেষ হলেও দ্বীনি শিক্ষা, আত্মশুদ্ধি ও নেক আমলের প্রত্যয় নিয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যান মুসল্লিরা।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।