মুসলিমবান্ধব পর্যটনের বৈশ্বিক গন্তব্য হতে চায় মালয়েশিয়ার পাহাং
হালাল খাবার, নামাজের সুবিধা ও পরিবারবান্ধব পর্যটনসেবা সম্প্রসারণে উদ্যোগ; ৩৫টির বেশি দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইসলামিক পর্যটন সম্মেলন।
- আপলোড সময় : ০৭-১১-২০২৬ ০৭:০০:৪৮ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৭-১১-২০২৬ ০৭:০০:৪৮ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৬৫ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
বিশ্বের মুসলিম পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে মুসলিমবান্ধব পর্যটনের আন্তর্জাতিক গন্তব্য হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চায় মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্য। হালাল খাবার, নামাজের সুবিধা, পরিবারবান্ধব আবাসন এবং ইসলামি ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটনসেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যটনবাজারে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে চায় রাজ্য কর্তৃপক্ষ।
এ লক্ষ্যে ৫ ও ৬ নভেম্বর মালয়েশিয়ার কুয়ানতান শহরের জেনিথ হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে পঞ্চম বিশ্ব ইসলামিক পর্যটন সম্মেলন ২০২৬। মালয়েশিয়ার পর্যটন, শিল্প ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন ইসলামিক ট্যুরিজম সেন্টার আয়োজিত এ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক আয়োজক ছিল পাহাং রাজ্য সরকার। এতে বিশ্বের ৩৫টিরও বেশি দেশ থেকে দেড় শতাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি, পর্যটন বিশেষজ্ঞ, নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
'সীমান্তের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বাস ও পরিবার' প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সম্মেলনে বৈশ্বিক মুসলিম পর্যটনশিল্পের ভবিষ্যৎ, নতুন বাজার সৃষ্টি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং পর্যটনসেবার মান উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। সম্মেলনে মোট ১৩টি আলোচ্য ধারায় পর্যটন খাতের বিভিন্ন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরা হয়।
মুসলিম পর্যটকদের ভ্রমণ আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে হালাল খাবার, নামাজের উপযুক্ত স্থান, মুসলিমবান্ধব হোটেল এবং পরিবারকেন্দ্রিক পর্যটনসেবা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি ইসলামি ঐতিহ্য, স্থানীয় সংস্কৃতি এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হয়।
সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে কয়েকটি কৌশলগত সমঝোতা স্মারক বিনিময় করা হয়। এর মধ্যে পাহাংয়ের জেন্টিং হাইল্যান্ডসে মুসলিমবান্ধব পর্যটনব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কিংস পার্ককে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে পরিচিত করার উদ্যোগ রয়েছে। এ ছাড়া কানাডা ও চীনের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ডিজিটাল প্রচারণা, পর্যটনসেবার স্বীকৃতি এবং দক্ষতা উন্নয়ন নিয়েও সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্মেলনের পাশাপাশি ৬ থেকে ৮ নভেম্বর কুয়ানতানের সুলতান আহমদ শাহ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পর্যটন মেলা। চারটি হলে ১২৩টি প্রদর্শনী স্টলের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যটনপণ্য, সেবা ও ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হচ্ছে। এতে স্থানীয় উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী এবং আন্তর্জাতিক পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও ব্যবসায়িক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ পাহাং মালয়েশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন অঞ্চল। এখানকার তামান নেগারার প্রাচীন বনাঞ্চল, চেরাটিংয়ের সমুদ্রসৈকত, ক্যামেরন হাইল্যান্ডসের পাহাড়ি সৌন্দর্য এবং ফ্রেজারস হিল পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।
এদিকে, ইস্ট কোস্ট রেল লিংক প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মালয়েশিয়ার পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা আরও উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে পাহাংয়ের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াত সহজ হবে এবং স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
বিশ্বজুড়ে মুসলিম পর্যটকদের সংখ্যা ও ভ্রমণ চাহিদা বাড়ার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশ এ খাতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। মালয়েশিয়াও দীর্ঘদিন ধরে হালাল পর্যটন ও মুসলিমবান্ধব আতিথেয়তা খাতে আন্তর্জাতিক পরিচিতি তৈরি করেছে।
পাহাংয়ের এই উদ্যোগ সফল হলে পর্যটন খাতে নতুন বিনিয়োগ, স্থানীয় কর্মসংস্থান এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও মুসলিমবান্ধব পর্যটনসেবার সমন্বয়ে পাহাং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করবে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।