সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন এই জোট যৌথ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন ও বাণিজ্যিক পণ্য সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের একাধিক হামলার কারণে লোহিত সাগর ও বাব আল মান্দেব প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাব আল মান্দেব প্রণালিতে সামান্য বিঘ্নও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সেই বাস্তবতায় নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করাকে জোটটির অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রিয়াদে অনুষ্ঠিত জোট গঠনের বৈঠকে বিশ্বের ৫১টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশসহ ৪৩টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পরে সৌদি আরব, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, ইয়েমেন, সুদান এবং কোমোরাস এই জোটের চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান এতে যোগ দেয়নি।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জোটটির প্রধান কার্যালয় সৌদি আরবে স্থাপিত হবে এবং ভবিষ্যতে অন্য দেশও এতে যোগ দিতে পারবে। চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক একটি জোট এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে গঠিত নয়।
সদস্য দেশগুলো গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ অপারেশনাল পরিকল্পনা গ্রহণ এবং নিয়মিত সামুদ্রিক সামরিক মহড়া পরিচালনার মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করবে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মতে, আন্তঃরাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডেস্ক রিপোর্ট