জর্ডানে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে প্রাণঘাতী হামলার আগে ইরান চীনের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ওই ঘাঁটির স্যাটেলাইট ছবি পেয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, তারা এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। ওই হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার আগে ইরানের হাতে স্যাটেলাইট ছবি পৌঁছেছিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, চীনের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এসব ছবি সরবরাহ করেছিল। তবে প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রকাশ করা হয়নি।
একই সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারা এমন কোনো অভিযোগ করেননি যে চীন সরকার সরাসরি ওই ছবি ইরানের কাছে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত ছিল। ফলে চীনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য সহায়তার অভিযোগ থেকে চীন সরকার পুরো প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
রয়টার্স জানিয়েছে, এ বিষয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই করতে পারেনি। তবে ইরানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং সম্ভাব্য প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ওয়াশিংটনের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে উত্তেজনা রয়েছে। এর মধ্যেই ইরানের সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার এই অভিযোগ সামনে এলো।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনটির গুরুত্ব কমিয়ে দেখিয়েছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকে বিষয়টি তুলবেন কি না জানতে চাইলে তিনি সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। ট্রাম্প বলেন, চীন যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নজরদারি করে, যুক্তরাষ্ট্রও চীনের ওপর নজরদারি চালায়।
ট্রাম্প আরও বলেন, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পরস্পরের সঙ্গে যুক্তিসংগত আচরণ করছে।
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে দুই নেতার বৈঠকের কথা রয়েছে। তবে চীন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ওই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
স্যাটেলাইট ছবি সরবরাহের অভিযোগ সত্য হলে, বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট প্রযুক্তি কীভাবে সামরিক নজরদারি বা অভিযানে ব্যবহৃত হতে পারে, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ বাড়তে পারে। বিশেষ করে হামলার আগে কোনো সামরিক স্থাপনার অবস্থান ও কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য শত্রুপক্ষের হাতে পৌঁছে থাকলে তা নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে, এই অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কেও নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চীনের কোনো প্রতিষ্ঠান ছবিগুলো সরবরাহ করে থাকলেও চীন সরকার সরাসরি এতে জড়িত ছিল এমন প্রমাণ সামনে আসেনি। চীনও এ অভিযোগের বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।