২১ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ২ লাখ ৯৪ হাজার কোটি টাকা
খেলাপি ঋণ ও প্রভিশন ঘাটতিতে দুর্বল হচ্ছে ব্যাংক খাত
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১৪-০৯-২০২৬ ০২:০২:৩৩ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৪-০৯-২০২৬ ০২:০২:৩৩ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ১২ বার পঠিত
ছবি সংগৃহিত
চলতি বছরের মার্চ প্রান্তিক শেষে দেশের ২১টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি বেড়ে প্রায় ২ লাখ ৯৪ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। গত ডিসেম্বর প্রান্তিকে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৭৪ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে দেশের ৬১টি ব্যাংকের সার্বিক নিট মূলধন ঘাটতিও বেড়ে ২ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদদের মতে, ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ এবং এর বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণের চাপ মূলধন ঘাটতি বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়লে ব্যাংকগুলোকে বেশি প্রভিশন রাখতে হয়। এতে মুনাফা কমে যায় এবং লোকসানের প্রভাব মূলধন ভিত্তিতেও পড়ে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ শেষে ব্যাংক খাতের প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা। ডিসেম্বর শেষে এর পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৯৮ হাজার ২৬০ কোটি টাকা। জুন শেষে প্রভিশন ঘাটতি আরও বেড়ে ২ লাখ ২২ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, খেলাপি ঋণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চহারে প্রভিশন সংরক্ষণের প্রয়োজন হয়। এতে ব্যাংকের মুনাফা কমে এবং লোকসান হলে মূলধন ঘাটতি আরও বাড়তে পারে।
ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা আরও বলছেন, দীর্ঘদিনের আগ্রাসী ঋণ বিতরণ, দুর্বল তদারকি এবং রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ অনুমোদনের কারণে ব্যাংক খাতের মূলধন পরিস্থিতি দুর্বল হয়েছে। মার্চ শেষে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের মতে, মূলধন ঘাটতি ব্যাংকের প্রতি আমানতকারীদের আস্থা কমাতে পারে। একটি ব্যাংকের দুর্বলতার প্রভাব পুরো ব্যাংক খাতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘদিন ধরে ২০ থেকে ২১টি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি থাকা খাতটির দুর্বলতারই ইঙ্গিত দেয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, মার্চ শেষে ব্যাংক খাতের ক্যাপিটাল টু রিস্ক ওয়েটেড অ্যাসেটস রেশিও বা সিআরএআর কমে ঋণাত্মক ৩ দশমিক ১৭ শতাংশে নেমেছে। ডিসেম্বর শেষে এই হার ছিল ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর ন্যূনতম ১২ দশমিক ৫ শতাংশ সিআরএআর বজায় রাখার কথা।
এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল আলম খান বলেন, প্রয়োজনীয় মূলধন ও সিআরএআর বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে লভ্যাংশ ও প্রণোদনা বোনাসে নিষেধাজ্ঞা, আমানতকারীদের আস্থা হ্রাস, অর্থায়ন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুনাফা কমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
মার্চ শেষে সবচেয়ে বেশি মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটির ঘাটতি ৬৬ হাজার ২৬৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এরপর বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ৩১ হাজার ৬৮৭ কোটি ১৭ লাখ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৩০ হাজার ৯৩৬ কোটি ৬৭ লাখ, ইউনিয়ন ব্যাংকের ৩০ হাজার ৫৯৪ কোটি ৫৬ লাখ এবং এক্সিম ব্যাংকের ৩০ হাজার ৩০২ কোটি ২৩ লাখ টাকা।
এ ছাড়া জনতা ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ১৮ হাজার ৩৫৪ কোটি ৯০ লাখ, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ১৬ হাজার ২৯৭ কোটি ৬১ লাখ, ন্যাশনাল ব্যাংকের ১১ হাজার ৯৮৪ কোটি ৯৮ লাখ, এবি ব্যাংকের ৮ হাজার ৪৮৭ কোটি ৫৯ লাখ এবং অগ্রণী ব্যাংকের ৮ হাজার ২৩৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৩
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
সর্বশেষ সংবাদ
এ জাতীয় আরো খবর