নবম পে স্কেলে বেতন পেতে তথ্য দিতে হবে আইবাসে
আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে সাত এসআরওতে হবে বাস্তবায়ন
- আপলোড সময় : ১২-০৯-২০২৬ ১২:৩৬:১০ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১২-০৯-২০২৬ ১২:৩৬:১০ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ১২৩ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
‘নবম জাতীয় পে স্কেল ২০২৬’ মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে। প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইনগত পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভেটিং শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এরপর বিভিন্ন শ্রেণির সরকারি চাকরিজীবীর জন্য সাতটি পৃথক এসআরওর মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে।
নতুন কাঠামোর আওতায় বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সশস্ত্র বাহিনী এবং বিচার বিভাগের জন্য পৃথক প্রয়োগবিধি থাকবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা এসব পৃথক আদেশের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রজ্ঞাপন জারির পর বাস্তবায়নের কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বেতন কাঠামো প্রয়োগে কারিগরি ও প্রশাসনিক পার্থক্য থাকায় পৃথক এসআরও প্রস্তুত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আইবাস প্লাস প্লাসে তথ্য হালনাগাদ এবং নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের কারিগরি প্রস্তুতিও চলছে।
নবম পে স্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হয়েছে। এতে ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।
সাতটি পৃথক এসআরওর মধ্যে সাধারণ বেসামরিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য একটি, পুলিশ সদস্যদের জন্য একটি এবং বিজিবির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য একটি থাকবে। সরকারি ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক কাঠামো রাখা হবে। স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্যও আলাদা বিধান থাকবে।
এ ছাড়া সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পৃথক নির্দেশনা এবং বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তা ও বিচারকদের জন্য বিচার বিভাগীয় কাঠামো নির্ধারণ করা হবে। ফলে একটি সাধারণ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মূল বেতন কাঠামো কার্যকর হলেও বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিজীবীর ক্ষেত্রে বিস্তারিত প্রয়োগ পৃথক আদেশে স্পষ্ট হবে।
নবম পে স্কেল বাস্তবায়নে বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবীদের চাকরি সংক্রান্ত তথ্য আইবাস প্লাস প্লাসে হালনাগাদ করা হবে। প্রত্যেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী অনলাইনে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করবেন। এতে পদ, গ্রেড, মূল বেতন, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেডসহ প্রয়োজনীয় তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তথ্য পূরণ ও যাচাইয়ের পর নতুন পে স্কেল অনুযায়ী একজন কর্মচারীর মূল বেতন ও প্রযোজ্য ভাতা সফটওয়্যারের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। এর ফলে কর্মচারীরা নিজেদের তথ্যের ভিত্তিতে নতুন বেতন কাঠামোয় আর্থিক অবস্থান জানতে পারবেন।
বর্তমানে আইবাস প্লাস প্লাসের মাধ্যমে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বেতন, পেনশন, বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কাজ পরিচালিত হয়। অনলাইন বেতন বিল, জিপিএফ, ঋণ ও আয়কর সংক্রান্ত হিসাব এবং ইএফটির মাধ্যমে বেতন ও পেনশন পরিশোধের সুবিধাও রয়েছে। নতুন পে স্কেলে গ্রেড, বেতন, ভাতা, পদোন্নতি ও ইনক্রিমেন্টের পরিবর্তন থাকায় সফটওয়্যারটিকে নতুন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য করা হচ্ছে।
অর্থ বিভাগের লক্ষ্য হলো কাগজে কলমে বেতন নির্ধারণের পরিবর্তে তথ্যভিত্তিক ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নতুন বেতন পুনর্নির্ধারণ করা। এতে হিসাবরক্ষণ অফিসে বারবার যাওয়ার প্রয়োজন কমবে এবং ভুল হিসাব, দ্বৈত সুবিধা বা অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হবে।
সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা থাকলে একবারেই নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো। তবে প্রয়োজনে একাধিক ধাপে বাস্তবায়নও বাস্তবসম্মত হতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর দিকেও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।