পদ্মার পানি বেড়ে তিন জেলায় বন্যা, পানিবন্দি লক্ষাধিক মানুষ
ফসলের মাঠ ও বসতবাড়ি তলিয়ে দুর্ভোগে হাজারো পরিবার, কোথাও শুরু হয়েছে নদীভাঙন।
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১২-০৯-২০২৬ ১০:২৮:৪৮ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১২-০৯-২০২৬ ১০:২৮:৪৮ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৪৬ বার পঠিত
ছবি— সংগৃহীত
পদ্মার পানি বাড়তে থাকায় রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গত দুই দিনে এসব জেলার নিম্নাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ, বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। আকস্মিক বন্যায় খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও গোখাদ্যের সংকটে পড়েছেন দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৯
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারত ফারাক্কা বাঁধের গেট খুলে দেওয়ায় উজান থেকে পানি নেমে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, উজানের ঢল ও অতিরিক্ত বৃষ্টিই পানি বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চিলমারী ও রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে ৮০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি। রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় অনেক এলাকায় নৌকা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। দুই ইউনিয়নের ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে।
এক সপ্তাহ ধরে পদ্মার পানি দ্রুত বাড়ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ১২ দশমিক ৮৮ মিটার। শুক্রবার বিকেল ৩টায় তা বেড়ে ১৩ দশমিক ০২ মিটারে পৌঁছায়। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ১৪ সেন্টিমিটার। দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন জানান, নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৩৫০ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুষ্টিয়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা জানান, আগামী দুয়েক দিনের মধ্যে পানি কমতে শুরু করতে পারে।
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের পুরো এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। চর বয়ারমারী ও কানাপাড়াসহ কয়েকটি এলাকায় নদীভাঙন শুরু হয়েছে। এছাড়া পবার চরখিদিরপুর, মধ্যচর, চরখানপুর ও মাঝারদিয়াড় এবং বাঘার চকরাজাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় তিন হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি। দুর্গত এলাকায় চাল, শুকনো খাবার ও ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে। চরাঞ্চলে তিনটি মেডিকেল টিম কাজ করছে।
রাজশাহী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান জানান, শুক্রবার সকাল ১০টায় পদ্মার পানি ১৭ দশমিক ২০ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল। তবে আগের ২৪ ঘণ্টার তুলনায় পানি বৃদ্ধির হার কিছুটা কমেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলও পদ্মার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। সেখানে প্রায় আড়াই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫৬ হেক্টর ফসলি জমি। কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দুর্গত এলাকায় খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবা নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব জানান, পূর্বাভাস অনুযায়ী শুক্রবারের পর পানি বৃদ্ধির হার কমে আসতে পারে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।