মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পাইপলাইনটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর এর কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে পরবর্তী তথ্য জানানো হবে।
আরব নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পরপরই পাইপলাইনটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি কারিগরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কাতারভিত্তিক আলজাজিরার প্রতিবেদনে সৌদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএকে দেওয়া এক কর্মকর্তার বক্তব্যেও পাইপলাইনটি সতর্কতামূলক কারণে সাময়িক বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতেও সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার ঘটনা ঘটে। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইরান সমর্থিত হুথিরা আবহা, খামিস মুশাইত, জিজান ও নাজরান এলাকায় বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এসব হামলায় দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন ধরে যায় এবং কিছু স্থাপনার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়।
এদিকে সৌদি আরবের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে কোয়ালিশন টু সাপোর্ট লেজিটিমেসি ইন ইয়েমেন। জোটটির দাবি, হামলায় নারী ও শিশুসহ ৭৩ জন বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন। হামলার হুমকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে জোটটি।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরাক থেকে উৎক্ষেপিত একাধিক ড্রোন রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে ইস্ট ওয়েস্ট পাইপলাইনকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে কয়েকজন আহত হওয়ার পাশাপাশি পাইপলাইন অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আপাতত পাল্টা হামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রিয়াদ।
সৌদি সরকারের ভাষ্য, ইরাক সরকার যেন নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সৌদি আরব ও প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে হামলা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে, সে সুযোগ দেওয়ার জন্যই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া থেকে বিরত রয়েছে তারা। একই সঙ্গে নিজেদের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করেছে সৌদি আরব।