ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দেশটিতে মার্কিন সেনা রাখার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার মতো ইরানের তেল নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আয়ারল্যান্ড সফরের সময় আইরিশ ওপেন গলফ চ্যাম্পিয়নশিপে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ট্রাম্প।
এ সময় ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক জ্বালানি চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরান থেকে বের হয়ে আসবে। তবে ইরানে অবস্থান অব্যাহত রেখে ভেনেজুয়েলার মতো দেশটির তেল নিয়ন্ত্রণে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হবে।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ চলতি বছরের মধ্যেই শেষ হবে বলে আবারও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। যুদ্ধের অবসান নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
ইরান শান্তি আলোচনার জন্য নিয়মিত যোগাযোগ করছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে তেহরান অতীতে এ ধরনের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ট্রাম্প বলেন, তিনি শুধু একটি ‘সঠিক চুক্তি’ চান এবং কোনো ‘খারাপ চুক্তিতে’ রাজি হবেন না।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনে হামলার খবরের পর সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
তবে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম দ্রুত কমে যাবে। ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সাম্প্রতিক জ্বালানি চুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি আরও দাবি করেন, দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র যে রাজস্ব পাচ্ছে, তা দিয়ে যুদ্ধের খরচ ‘অনেকবার’ মেটানো হয়ে গেছে।