সোমবার রাতে দুঘটনার পর হাসপাতালটি পরিদর্শনে গিয়ে বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যমে পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যুর খবর প্রচার করা হলেও তার সত্যতা পাওয়া যায়নি। মূলত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। যাদের মধ্যে দুজনের স্বাভাবিক মৃত্যু নিশ্চিত করেছে চিকিৎসকরা। বাকি দুজনের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে চেষ্টা চলছে। ঘটনা তদন্তে গঠন করা হয়েছে বিভাগীয় কমিটি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের আট তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এসময় তাড়াহুড়ো করে সিড়ি দিয়ে নিচে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে কয়েকজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শী ও গোয়েন্দা সংস্থা। তার মধ্যে একজন জন শিশু রয়েছে। বাকি ৫ জনের মধ্যে ২ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তারা হলেন- শাহজাহান (৪০) ও কুলসুম (৩৫)। বাকিদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে, নিহতের খবর নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা মুখ খোলেননি।
এদিকে গণমাধ্যমে নিহতের খবর প্রচারিত হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। সন্ধ্যার পরই হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার।
এর আগে, সন্ধ্যা ছয়টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের আট তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি স্টেশনের ১০টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর অতিরিক্ত ইউনিটগুলো সরিয়ে নেয়া হলেও চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে রাখা হয়।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী বলেন, হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনের লিফটের কন্ট্রোল রুমে থাকা কন্ট্রোলার মেশিনের সঙ্গে যুক্ত বোর্ডে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তিনি বলেন, কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগার কারণে ভবনের বিভিন্ন তলায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের পরিমাণ বড় না হলেও ধোঁয়ার কারণে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
এদিকে হাসপাতালের উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম বলেন, অগ্নিকাণ্ডে হাসপাতালের কোনো ওয়ার্ডের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আগুনের প্রকৃত কারণ এবং বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।