মদিনায় বিশাল ইউরেনিয়াম ও বিরল খনিজের সন্ধান সৌদি আরবের
জাবাল সাইয়িদ এলাকায় ১১ কোটি টন খনিজ আকরিকের সম্ভাবনা
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১৫-০৯-২০২৬ ০১:০১:৪৩ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৫-০৯-২০২৬ ০১:০১:৪৩ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২০ বার পঠিত
ছবি সংগৃহিত
সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলের জাবাল সাইয়িদ এলাকায় বিপুল পরিমাণ বিরল খনিজ ও ইউরেনিয়ামের সন্ধান পাওয়া গেছে। দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান জানিয়েছেন, সেখানে প্রায় ১১০ মিলিয়ন টন বা ১১ কোটি টন খনিজ আকরিক থাকার ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাবাল সাইয়িদ এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিরল খনিজের পাশাপাশি ইউরেনিয়ামেরও সন্ধান মিলেছে।
সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু সহযোগিতা চুক্তির কয়েক মাস পর এই আবিষ্কারের তথ্য সামনে এলো। গত ২২ জুলাই দুই দেশ পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি করে। এর ফলে সৌদি আরবের বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর কাজের সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতাও জোরদার হওয়ার কথা রয়েছে।
সৌদি সরকারের তথ্য অনুযায়ী, জাবাল সাইয়িদ এলাকায় প্রায় ৫ লাখ ৫২ হাজার টন ভারী বিরল খনিজ রয়েছে। এর মধ্যে ডিসপ্রোসিয়াম ও টার্বিয়ামের মতো খনিজ রয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার টন হালকা বিরল খনিজ থাকার ধারণা করা হচ্ছে, যার মধ্যে নিওডিমিয়াম ও প্রাসিওডিমিয়াম রয়েছে। এলাকায় প্রায় ৩১ হাজার টন ইউরেনিয়াম থাকারও অনুমান করা হচ্ছে।
মদিনার এই খনিজসমৃদ্ধ এলাকাটি জেদ্দার প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার উত্তরপূর্বে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশ্বের বড় বিরল খনিজ মজুদের মধ্যে জাবাল সাইয়িদের অবস্থান চতুর্থ।
২০২৫ সালের নভেম্বরে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এর অংশ হিসেবে সৌদি সরকারি খনি কোম্পানি মাদেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের এমপি ম্যাটেরিয়ালস যৌথভাবে কাজের উদ্যোগ নেয়। সৌদি আরবে একটি বিরল খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ ৪৯ শতাংশ এবং মাদেন ৫১ শতাংশ মালিকানা রাখবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব খনিজ ও ইউরেনিয়াম বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগানো গেলে সৌদি আরব নিজস্ব পরমাণু জ্বালানি উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানির সুযোগও পেতে পারে।
সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দেশটিতে আবিষ্কৃত বিরল খনিজের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০১৮ সালের তুলনায় ৯০ শতাংশ বেশি। এছাড়া সৌদি ভূতাত্ত্বিক জরিপের গবেষণায় আরও দুটি বড় খনিজ অনুসন্ধান এলাকার সন্ধান পাওয়া গেছে, যেখানে মোট প্রায় ৬৪ কোটি ৪০ লাখ টন খনিজ সম্পদ থাকার ধারণা করা হচ্ছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৩
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
সর্বশেষ সংবাদ
এ জাতীয় আরো খবর