অন্তর্বর্তী সরকারের কারও জন্য ‘সেফ এক্সিট’ নয়—মানিকগঞ্জে প্রেস সচিব শফিকুল আলম
- আপলোড সময় : ২৩-০১-২০২৬ ১০:৫৮:৪৮ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৩-০১-২০২৬ ১০:৫৮:৪৮ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৪৯ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো সদস্যের জন্য ‘সেফ এক্সিট’-এর প্রশ্নই ওঠে না বলে স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম। তাঁর ভাষায়, সরকারের এমন কোনো কার্যক্রম নেই, যার জন্য ভবিষ্যতে পালিয়ে যাওয়ার বা নিরাপদ প্রস্থানের প্রয়োজন হতে পারে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ইমামবাড়ি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। প্রেস সচিব জানান, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে গুরুত্ব দিয়েছে। ‘সেফ এক্সিট’ প্রসঙ্গ যারা তুলছেন, তাদের উদ্দেশ্য নিয়েই তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে জন্ম নিয়ে তিনি গর্বিত এবং দেশেই থেকে কাজ করতে চান। জীবিকা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আল্লাহ রিজিকের মালিক—যে কাজ পাওয়া যাবে, সেটাই করবেন।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সব শ্রেণি-পেশার মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন। তাঁর মতে, বাউল সমাজের ভোটার থেকে শুরু করে ধর্মে বিশ্বাসী বা অবিশ্বাসী—সব নাগরিকই নিরাপদ পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেবেন।
সম্প্রতি বাউলশিল্পী আবুল সরকারের ভক্তদের ওপর হামলার ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা জানান। প্রেস সচিব বলেন, ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। এ বিষয়ে পুলিশ মামলা করেছে এবং একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ, আর এই ঐতিহ্য বজায় রাখা সবার দায়িত্ব। মতবিরোধ থাকা স্বাভাবিক, তবে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহনশীলতা বজায় রাখতে পারলেই ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা এড়ানো সম্ভব হবে। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় দেশের প্রায় ৬০টি মাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গণমাধ্যম সংস্কার প্রসঙ্গে প্রেস সচিব জানান, তথ্য অধিকার আইন (আরটিআই) আরও কার্যকর করতে কিছু প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। তথ্য চাওয়া, সূচিপত্র প্রণয়ন এবং প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় ১৮ মাস ধরে দায়িত্বে রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, তবে যেসব বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন ছিল, সেগুলোতে কাজ করা হয়েছে। সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা না গেলেও সরকারের সদিচ্ছার ঘাটতি নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।