ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, তার রাজনৈতিক জীবনের মূল লক্ষ্য জনগণের সেবা করা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করা। তিনি জানান, আজীবন জনগণের পাশে থেকে দায়িত্বশীল রাজনীতি করার অঙ্গীকার নিয়েই তিনি মাঠে রয়েছেন।
মঙ্গলবার রাজধানীর আর কে মিশন রোডের নীড় ছায়াবীথি এলাকায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধির প্রধান দায়িত্ব হলো ভোটারদের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা। নির্বাচিত হলে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময়ের মাধ্যমে সমস্যাগুলোর সমাধানে কাজ করা হবে।
ইশরাক হোসেন বলেন, অতীতের মতো শুধুমাত্র নির্বাচনের সময় প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ আর নেই। তার ভাষায়, ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল একটি নতুন বাংলাদেশের পথচলা, যেখানে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে জনস্বার্থ ও জাতীয় কল্যাণ, ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থ নয়।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছরে নানা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও রাজধানীর যানজট, পরিবেশ দূষণ, জলাবদ্ধতা, মশাবাহিত রোগ ও গ্যাস সংকটের মতো মৌলিক সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান হয়নি। এসব সমস্যাকে বাস্তবতা হিসেবে চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
নির্বাচিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব—এমন অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমস্যাগুলো স্থানীয় পর্যায়ে সমাধানের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সংসদে উত্থাপন করা হবে।
নাগরিক অধিকার ও অসাম্প্রদায়িকতার বিষয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, এই এলাকার উল্লেখযোগ্য অংশ সনাতন ধর্মাবলম্বী হলেও এখানে কেউ সংখ্যালঘু নয়; সবাই সমান অধিকারসম্পন্ন বাংলাদেশি। ধর্ম, বর্ণ কিংবা আর্থসামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে দেশটি সবার—এই নীতিতেই রাজনীতি করার কথা জানান তিনি।
ভোটের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারী ভোটারদের সুবিধা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহিলা ভোটকেন্দ্রে নারী পোলিং এজেন্ট নিয়োজিত থাকবে। পরিচয় যাচাইয়ের পর ব্যালট প্রদানসহ পুরো প্রক্রিয়ায় সতর্কতা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
নারীর ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, এই আসনে মোট ভোটারের ৫১ শতাংশের বেশি নারী। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশে নারী নেতৃত্বের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ভবিষ্যতে আরও বেশি নারীকে সামাজিক, রাজনৈতিক ও নাগরিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় ওয়ারী থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির আহমেদ আরিফ, যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক মুক্তাসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ডেস্ক রিপোর্ট