ঢাকা , শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ , ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) , ২০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন আবেদন ফের নাকচ কর্মকর্তাদের গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ কমাল ডিএসসিসি বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের তুরাগ নদে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফের লাশ উদ্ধার কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা মামলায় হানিফের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড ৪৬ বছর পর ফিরছে গ্রাম সরকার, থাকছে ১৭ সদস্য খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলায় সোহাগের ৩ দিনের রিমান্ড রমজান সামনে রেখে বাড়ছে নিত্যপণ্যের আমদানি, কমেছে কয়েকটির দাম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণ সাংবাদিকদের নিয়ে মন্তব্য, এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি নোটিশ শুধু আইনে সড়ক নিরাপদ হবে না, প্রয়োজন কার্যকর প্রয়োগ: ইলিয়াস কাঞ্চন টঙ্গীতে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, শিক্ষক গ্রেপ্তার দিল্লি এড়িয়ে রুবিওর ভারত সফর, বদলাচ্ছে সম্পর্কের সমীকরণ ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ, তবু বাতিল বিআরটি প্রকল্প রাজধানীর যানজট নিরসনে সরকারের চার বড় উদ্যোগ ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ সরকার লাওসে চীনের নতুন সামরিক ঘাঁটি, বাড়ছে আঞ্চলিক উদ্বেগ সোনা-হীরা চোরাচালান মামলায় দিলীপ আগরওয়ালার এক দিনের রিমান্ড হাইকোর্টে অগ্নিনিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও উদ্ধার মহড়া

সোভিয়েত ইউনিয়ন কর্তৃক ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের অন্তর্ভুক্ত করার ঐতিহাসিক কারণ

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ২০-০১-২০২৬ ০৬:৫৫:১৪ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২০-০১-২০২৬ ০৬:৫৫:১৪ অপরাহ্ন
  • ৩ মিনিট পড়ার সময়
  • ৮৭ বার পঠিত
সোভিয়েত ইউনিয়ন কর্তৃক ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের অন্তর্ভুক্ত করার ঐতিহাসিক কারণ ছবি: সংগৃহীত
ইরফান ইবনে আমিন পাটোয়ারী, শিক্ষার্থী, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
 
১৯৫৪ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র থেকে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল; ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রাশিয়ান সোভিয়েত ফেডারেটিভ সোশালিস্ট রিপাবলিক (RSFSR) থেকে ইউক্রেনিয়ান সোভিয়েত সোশালিস্ট রিপাবলিকের (Ukrainian SSR) অধীনে স্থানান্তর করা হয়। এই সিদ্ধান্তটি দীর্ঘমেয়াদে ব্যাপক রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক পরিণতির জন্ম দিয়েছে। 
 
যদিও এই স্থানান্তর শুরুতে এক প্রকার প্রশাসনিক রদবদল বলে মনে হলেও, এর পেছনে ছিল জটিল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত কূটনৈতিক কারণ। এই আলোচনায় আমরা ইতিহাস, ভূ-রাজনীতি, প্রশাসনিক কাঠামো এবং নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করার ও জানার চেষ্টা করবো।
 
প্রথমত, সোভিয়েত ইউনিয়নের অভ্যন্তরে "ইউনিয়ন রিপাবলিক" গুলোর মধ্যে অঞ্চল হস্তান্তর পুরোপুরি অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা ছিল না। ১৯৫৪ সালের এই স্থানান্তরের প্রেক্ষাপটে তখন সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে ছিলেন নিকিতা খ্রুশ্চেভ। তিনি ছিলেন ইউক্রেনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, এবং ১৯৩০ ও ১৯৪০-এর দশকে তিনি ইউক্রেনের কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম সচিব হিসেবে কাজ করেছিলেন। ধারণা করা হয়, খ্রুশ্চেভ ইউক্রেনের প্রতি তার ব্যক্তিগত আনুগত্য এবং ইউক্রেনকে শক্তিশালী করার অভিপ্রায় থেকেই এই সিদ্ধান্তে এরকম ভূমিকা রেখেছিলেন।
 
দ্বিতীয়ত, ১৯৫৪ সালে ছিল রাশিয়া ও ইউক্রেনের "পেরেস্লাভ চুক্তি"-র ৩০০ বছর পূর্তি। এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ উপলক্ষে সোভিয়েত প্রপাগান্ডা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি এক ধরণের "ভ্রাতৃত্বের প্রতীক" হিসেবে ক্রিমিয়ার স্থানান্তরকে তুলে ধরেছিল। সোভিয়েত মিডিয়া ও ভাষ্যকাররা একে "সৌহার্দ্য ও ঐক্যের নিদর্শন" হিসেবে প্রচার করে। খ্রুশ্চেভের শাসনামলে এই ধরণের প্রতীকী পদক্ষেপ নেয়ার প্রবণতা ছিল; যা ছিল এক ধরণের রাজনীতিকভাবে প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
 
তৃতীয়ত, প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এই সিদ্ধান্তের পেছনে যৌক্তিকতা খুঁজে পাওয়া যায়। ১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন, ক্রিমিয়ান তাতারদের "জার্মান নাৎসি সহযোগিতা"র অভিযোগে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়। এরপর উপদ্বীপটিতে জনবসতি হ্রাস পায় এবং নতুন করে গঠন ও উন্নয়নের জন্য প্রশাসনিক পুনর্গঠন জরুরি হয়ে ওঠে। 
 
ক্রিমিয়ার ভৌগোলিক অবস্থান ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের সাথে অনেক বেশি সমন্বিত; বিশেষত কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল ও মূল ভূখণ্ডের সাথে সড়ক ও রেল সংযোগ ছিল মূলত ইউক্রেনের ওপর নির্ভরশীল। কৃষ্ণসাগরের পানির সংকট নিরসনে ও চাষযোগ্য জমির উন্নয়নে যে প্রকল্পগুলো নেওয়া হচ্ছিল, সেগুলোর বেশিরভাগ ছিল ইউক্রেনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনিকভাবে ক্রিমিয়াকে ইউক্রেনের অধীনে আনা কার্যকর বলে মনে করা হয়।
 
চতুর্থত, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নেও ক্রিমিয়ার ইউক্রেনভুক্তি যৌক্তিক মনে হয়েছিল। সোভিয়েত ইউনিয়নে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা কমিশন (Gosplan) যেভাবে অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করতো, তাতে করে ক্রিমিয়া ইউক্রেনের অর্থনৈতিক বলয়ে ঢুকে পড়ে। কৃষি, শিল্প, অবকাঠামো ও পর্যটন; এইসব খাতে উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য ইউক্রেনের প্রশাসনিক পরিকাঠামো অনেক বেশি কার্যকর ছিল। বিশেষ করে দোনবাস অঞ্চল ও দক্ষিণ ইউক্রেন থেকে ক্রিমিয়ায় জল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ সহজতর ছিল।
 
পঞ্চমত, সোভিয়েত কাঠামোর ভেতরে এই স্থানান্তর যে কোনো ভবিষ্যৎ ভূরাজনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, এমন আশঙ্কা তখন তেমন কেউ করেনি। কারণ সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেতরে রিপাবলিকগুলোর মধ্যে সীমানা অনেকটাই ছিল "অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক" গণ্ডি হিসেবে বিবেচিত। কেউ কল্পনাও করেনি যে একদিন এই ইউনিয়ন ভেঙে পড়বে এবং এই প্রাদেশিক সীমানাগুলো আন্তর্জাতিক সীমানায় পরিণত হবে। তাই ১৯৫৪ সালের হস্তান্তরের সিদ্ধান্তকে অনেকটা নির্ভারভাবে নেওয়া হয়েছিল, যার দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক মূল্যায়ন তখনো প্রাসঙ্গিক ছিল না।
 
পরিশেষে, বলা যায়, সোভিয়েত ইউনিয়নের সিদ্ধান্তে ক্রিমিয়ার ইউক্রেনভুক্তি একদিকে যেমন প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে যৌক্তিক মনে হয়েছিল, অন্যদিকে এটি ছিল এক ধরণের প্রতীকী রাজনৈতিক পদক্ষেপ। নিকিতা খ্রুশ্চেভের নেতৃত্বে এটি "ভ্রাতৃত্বের উপহার" হিসেবে বর্ণিত হলেও, এই স্থানান্তর পরবর্তীকালে (বিশেষ করে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর) হয়ে দাঁড়ায় এক অত্যন্ত জটিল ও বিবাদপূর্ণ ইস্যু। ইতিহাসের একটি সিদ্ধান্ত, যা তৎকালীন প্রেক্ষাপটে একটি নিছক অভ্যন্তরীণ পুনর্বিন্যাস বলে মনে হয়েছিল, তা-ই হয়ে ওঠে একবিংশ শতাব্দীর ইউরোপীয় ভূরাজনীতির সবচেয়ে উত্তপ্ত বিতর্কগুলোর একটি।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।