ক্ষমতায় গেলে সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, পানি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ রক্ষা এবং জনজীবনের উন্নয়নে খাল খনন একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ, যা বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে বাস্তবায়ন করা হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর বনানী চেয়ারম্যানবাড়ি মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত এক দোয়া মাহফিল ও মতবিনিময় সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, শহর ও গ্রাম—উভয় এলাকাতেই খাল খননের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। এক সময়ের কার্যকর খালগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশগত সমস্যা তৈরি হয়েছে।
তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে বলেন, সেই উদ্যোগ দেশের বহু অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকায় ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমানে ঢাকায় বসবাসকারী মানুষও খাল পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে অনুভব করছেন।
রাজধানীর পরিবেশ পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় পর দেশে ফিরে তিনি লক্ষ্য করেছেন, ঢাকার সবুজায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নগরী যেন আগের তুলনায় শুষ্ক হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিএনপি সরকার গঠন করলে পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি উপজেলায় সরকারি ও বেসরকারি নার্সারির সক্ষমতা বাড়িয়ে পরিকল্পিত বনায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যাতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পায় এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি পায়।
রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রসঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, বিরোধী দলের সমালোচনা রাজনীতির স্বাভাবিক অংশ হলেও ভবিষ্যতে শুধু সমালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সংকট সমাধানে বাস্তবমুখী আলোচনা ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
ঢাকার যানজট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করা গেলে ট্রাফিক সমস্যার বড় অংশ সমাধান করা সম্ভব। তিনি ব্যয়বহুল মেট্রোরেলের বিকল্প হিসেবে মনোরেল ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন এবং বনানী, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মেট্রোরেলের সঙ্গে মনোরেল সংযুক্ত করার মাধ্যমে চলাচল ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব বলে মত দেন।
শিক্ষা ও ক্রীড়া খাত নিয়েও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ক্রীড়াকে পেশাগত পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে বিএনপির। সে অনুযায়ী শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে পেশাদার ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি জানান, ভবিষ্যতে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য অন্তত একটি খেলায় ও একটি সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনাও রয়েছে বিএনপির।
ডেস্ক রিপোর্ট