গাইবান্ধায় গণভোটের পক্ষে জনসচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের প্রশ্ন ও স্লোগানের মুখে পড়েন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি বক্তব্য অসমাপ্ত রেখেই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে গাইবান্ধা জেলা ইনডোর স্টেডিয়ামে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। বক্তব্যে আসিফ নজরুল বলেন, গণভোট কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়, বরং এটি নতুন বাংলাদেশের পক্ষে বা বিপক্ষে মতামত জানানোর একটি সুযোগ। তিনি নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের লক্ষ্যে সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। তার বক্তব্যে আগের শাসনামলের সমালোচনা উঠে আসে, যেখানে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার, দমন-পীড়ন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজসহ সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে নেমেছিল।
তিনি দাবি করেন, বহু ত্যাগ ও রক্তক্ষয়ের মধ্য দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশের ধারণা সামনে এসেছে। আসন্ন নির্বাচনে সবাই যেন স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ভোটে বাধা দেওয়ার সংস্কৃতি পরিহারের কথা উল্লেখ করেন।
সভায় গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিনসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
তবে বক্তব্য চলাকালে স্থানীয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার প্রক্রিয়া এবং মামলার অভিযোগপত্রের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একপর্যায়ে প্রশ্নোত্তর ও স্লোগানের মাধ্যমে পরিস্থিতি উত্তেজনাকর হয়ে ওঠে। এ সময় ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেওয়া হলে আইন উপদেষ্টা আর বক্তব্য চালিয়ে না গিয়ে সভাস্থল ত্যাগ করেন।
ডেস্ক রিপোর্ট