গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি 'অপারেশন এপিক ফিউরি' এবং ইরানের পাল্টা 'ট্রু প্রমিজ ৪' অভিযানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র ও ভূ-রাজনীতি এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সংঘাত কেবল ইরান বা ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে লেবানন, সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েতসহ পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরানি রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে নিহতের সংখ্যা ৭৮৭ জনে পৌঁছেছে। দেশটির ১৫৩টি শহর ও ৫০৪টি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় মার্কিন ও ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এমনকি তেহরানের মোতাহারি হাসপাতাল এবং মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে হামলার খবর পাওয়া গেছে, যেখানে ১৬৫ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA) নিশ্চিত করেছে যে, নাতাঞ্জ পরমাণু কেন্দ্রের প্রবেশপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলার পর সেখানে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। এছাড়া কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেছে এবং জেরুজালেমে মার্কিন মিশন নাগরিকদের সরিয়ে নিতে অপারগতা জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোতে এখন সর্বোচ্চ সতর্কতা বিরাজ করছে।
লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলা ও নতুন স্থল অভিযানের মুখে দেশটির সরকার এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন হিজবুল্লাহর সামরিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তবে হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ নেতা মাহমুদ কোমাতি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তারা যেকোনো পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের জবাব দিতে প্রস্তুত। এদিকে যুদ্ধের কারণে ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ লেবানন ছেড়ে সিরিয়া সীমান্তের দিকে পালাচ্ছে।
ইরান বিশ্বের অন্যতম তেলের রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার দাবি করায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম টানা তৃতীয় দিনের মতো বেড়েছে। কাতার তাদের এলএনজি (LNG) উৎপাদন স্থগিত করায় বৈশ্বিক গ্যাস সরবরাহেও বড় সংকটের পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া ও ওমানের মতো দেশগুলো ইতিমধ্যে জ্বালানি মজুত নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যগামী দেড় শতাধিক ফ্লাইট বাতিল করে পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা আংশিক বন্ধ ঘোষণা করেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। তবে কংগ্রেসে 'ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট' নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট