যুদ্ধবিরতির প্রত্যাশা চলমান থাকলেও গাজায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) মধ্য গাজার কয়েকটি এলাকায় বাসিন্দাদের সরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পরপরই ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়। একই দিনে দক্ষিণ গাজায় হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, আর পশ্চিম তীরেও বসতি সম্প্রসারণ ও সহিংসতার ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধ্য গাজার বুরেইজ, মাগাজি, দেইর আল-বালাহ ও নুসেইরাত এলাকায় বাসিন্দাদের এলাকা ত্যাগের নির্দেশ দিয়ে সেখানে বিমান হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। এতে বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাসিন্দারা, যদিও তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। যুদ্ধবিরতির আশায় যারা ঘরে ফিরেছিলেন, তাদের অনেকেই আবারও নিরাপত্তাহীন অবস্থায় পড়েছেন।
এদিকে দক্ষিণ গাজার বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে হামলার তথ্য জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, আল-মাওয়াসি, খান ইউনিস ও গাজা সিটি এলাকায় হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে।
গাজার পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরেও উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। হেবরনের দক্ষিণে মাসাফের ইয়াত্তা এলাকায় ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় কয়েকজন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট। একই এলাকায় কৃষিজমিতে আগুন দেওয়া ও যানবাহন ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে।
পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ জানিয়েছেন, নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা পশ্চিম তীরে ৩৪টি নতুন বসতি স্থাপনের জন্য প্রায় ৪৩ কোটি ডলারের বাজেট অনুমোদন করেছে। অন্যদিকে, হামাসের এক কর্মকর্তা ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় চলমান সামরিক অভিযান এবং একইসঙ্গে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের পদক্ষেপ ফিলিস্তিন-ইসরাইল সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
ডেস্ক রিপোর্ট