ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ভূমিকা রাখতে চায় বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই ইচ্ছার কথা জানান। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, তেহরানের নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণে তাকে ব্যক্তিগতভাবে সম্পৃক্ত হতে হবে। ভেনেজুয়েলার শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের যে ধরনের প্রভাব ছিল, ইরানের ক্ষেত্রেও তেমন হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা দেখছেন তিনি।
বার্তা সংস্থা এএফপি-র বরাতে জানা গেছে, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী নেতা হিসেবে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "তারা সময় নষ্ট করছে। খামেনির ছেলে একজন দুর্বল নেতা। আমরা এমন একজনকে নেতৃত্বে দেখতে চাই, যিনি ইরানে প্রকৃত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবেন।" ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তেহরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ওয়াশিংটন এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রাসী ভূমিকা নিতে প্রস্তুত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের পূর্ববর্তী নেতাদের নীতি অনুসরণ করবেন এমন কাউকে তিনি কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। তার মতে, যদি আগের ধারার কোনো নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসে, তবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আবারও বড় ধরনের যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী মার্কিন স্বার্থ রক্ষা এবং ইরানের পরমাণু ও সামরিক নীতিতে আমূল পরিবর্তন আনতেই ট্রাম্প এমন বিতর্কিত ও হস্তক্ষেপমূলক অবস্থান নিয়েছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ডেস্ক রিপোর্ট