ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ , ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) , ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
উচ্চস্বরে গান বাজানো নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ-মাদরাসা ছাত্র সংঘর্ষ আরব আমিরাতে ফের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান ভারতে শেখ হাসিনা কোন স্ট্যাটাসে আছেন জানে না বাংলাদেশ: চিফ প্রসিকিউটর দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর শীর্ষ কমান্ডার নিহত: ইসরায়েল ভূমধ্যসাগরে ৯ দিন ভাসল নৌকা: অনাহারে ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু বিএনপি সরকারের ৬ মাস: অর্থনৈতিক অবস্থা চাপে সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আজ বিশেষ মতবিনিময় সভা ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যের কড়া জবাব ইরানের সেনাপ্রধানের চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে দুই জাহাজের ধাক্কা: বড় ধরনের ক্ষতি নেই জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ বেড়ে ২৪৪৩ মিলিয়ন ঘনফুটে ট্রাম্প প্রতিরোধ গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দিয়েছেন, দাবি গালিবাফের অনুকূল পরিবেশ ছাড়া ভারত সফর নয়, জানাল বাংলাদেশ রাঙামাটির মানিকছড়িতে পিকআপ উল্টে নিহত ৪, আহত ২ কিডনি ও লিভারের জটিল রোগে নিঃস্ব লাখো পরিবার,বাড়ছে অসহায়ত্ব প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ, জ্বালানি সংকটে যা বললেন হাসনাত এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শেষ কাল ঢাকা-দিল্লী মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন: প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর কিশোরগঞ্জে ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ উপাসনালয়ের সেবকদের সম্মানী দেবেন সরকার মিশিগানে ৫ জনকে গুলি করে হত্যা, সন্দেহভাজনের মরদেহ মিলল বনে বাংলাদেশ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে: জ্বালানিমন্ত্রী

কোরবানির ঈদের আগে ব্যাংকে নগদ টাকার তীব্র সংকট: চাহিদার অর্ধেক নতুন নোটও দিতে পারছে না টাঁকশাল, বাজারে ছেঁড়া-ফাটা টাকার ছড়াছড়ি

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ২০-০৫-২০২৬ ০১:৫০:১৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২০-০৫-২০২৬ ০১:৫০:১৩ অপরাহ্ন
  • ৪ মিনিট পড়ার সময়
  • ৫৭ বার পঠিত
কোরবানির ঈদের আগে ব্যাংকে নগদ টাকার তীব্র সংকট: চাহিদার অর্ধেক নতুন নোটও দিতে পারছে না টাঁকশাল, বাজারে ছেঁড়া-ফাটা টাকার ছড়াছড়ি ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার চাহিদাপত্র দিয়েছে একটি বেসরকারি ব্যাংক। এক সপ্তাহে সে ব্যাংক পেয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকা। একইভাবে অপর একটি ব্যাংক ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা চেয়ে ১ হাজার কোটি টাকা পেয়েছে। এই চিত্র প্রায় অধিকাংশ ব্যাংকের। ঈদের আগে ব্যাংকে নগদ টাকার তীব্র সংকটের কারণেই গ্রাহক চাহিদা পূরণ করতে পারছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বলেন, ঈদের আগে নগদ টাকার ব্যাপক চাহিদা। বিশেষ করে কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে চাহিদা আরও বেড়েছে। কিন্তু গত এক সপ্তাহে পর্যাপ্ত টাকা দিতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে গ্রাহককে কাঙ্ক্ষিত টাকা দিতে পারছে না ব্যাংকগুলো।

প্রথম প্রজন্মের একটি বেসরকারি ব্যাংক ১০ মে ৬০০ কোটি টাকা চেয়ে পায় ৪৩০ কোটি, ১১ মে ৪০০ কোটি টাকা চেয়ে পায় ২১০ কোটি, ১২ মে ৪০০ কোটি টাকা চেয়ে পায় ২২০ কোটি, ১৩ মে ৬০০ কোটি টাকা চেয়ে পায় মাত্র ১২০ কোটি, ১৪ মে ৭০০ কোটি চেয়ে পায় ২১০ কোটি, ১৭ মে ৬০০ কোটি টাকা চেয়ে পায় ১২০ কোটি এবং ১৮ মে ৬০০ কোটি টাকা চেয়ে পেয়েছে ২১০ কোটি টাকা।

জানা যায়, কুরবানির ঈদ সামনে রেখে ছাপানো টাকার চাহিদা বেড়েছে। ঈদের আগে টাঁকশালের কাছে অন্তত ১৬ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট চেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে সেখান থেকে জানানো হয়েছে, কাগজ-কালির সংকটের ফলে সর্বোচ্চ ৮ হাজার কোটি টাকার নোট দেওয়া সম্ভব। যদিও সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশনে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিযুক্ত পুরোনো নকশার ১৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা পড়ে আছে। এ নোট চাইলে দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজারে দেওয়া সম্ভব। তবে আপাতত এই ছবিযুক্ত নোট না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রসঙ্গত, ছাপানো টাকার সংকট এবং তারল্য সংকট এক নয়। সব মিলিয়ে এখন ব্যাংক খাতে সঞ্চয় রয়েছে ২৪ লাখ কোটি টাকার মতো। ছাপানো টাকার চাহিদা রয়েছে ৩ লাখ ২০ হাজার থেকে ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। প্রতিবছর ঈদ সামনে রেখে ছাপানো নোটের চাহিদা বাড়ে। যে কারণে এ সময় সর্বোচ্চসংখ্যক নতুন নোট বাজারে দেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিযুক্ত নোটের বদলে একযোগে নতুন নকশার নোট আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন নোট বাজারে আনতে প্রক্রিয়া শুরুর পর ১০ থেকে ১৮ মাস সময় লাগে। স্বাভাবিক সময়ে নোটের নকশা বদলের ক্ষেত্রে একযোগে না করে একটি-একটি করে বদল করা হতো। ৫ আগস্টের পর বিশেষ পরিস্থিতির কারণে একযোগে সব মূল্যমানের নতুন ডিজাইনের নোট বাজারে আনার চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে পুরোনো নকশার নোট অনেকদিন বাজারে ছাড়া বন্ধ রাখা হয়। এ কারণে চাহিদার সঙ্গে জোগানে বড় পার্থক্য দেখা দেওয়ায় এরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ব্যাংকাররা জানান, ছাপানো নোটের বড় একটি অংশ ব্যবসায়িক কাজে কিংবা দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে মানুষের কাছে থাকে। আর ব্যাংক খাতে ১২ হাজার শাখার ভল্টে থাকে ১৬ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বিনিময় করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট এবং সোনালী ব্যাংকের চেস্ট শাখার কাছে থাকে ১৪ থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব হলো-বাজার থেকে প্রতিনিয়ত পুরোনো, ছেঁড়া-ফাটা, অধিক দাগ বা ময়লাযুক্ত টাকা তুলে তা বাংলাদেশ ব্যাংক বা সোনালী ব্যাংকে জমা দেওয়া। তবে চাহিদামতো টাকা না পাওয়ায় এখন বাজারে প্রচুর ছেঁড়া-ফাটা নোট পাওয়া যাচ্ছে।

জানা যায়, এবার ঈদের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ টাঁকশালের কাছে বিভিন্ন মূল্যমানের অন্তত ১৬ হাজার কোটি টাকার নতুন নোটের চাহিদা দেয়। তবে টাঁকশাল থেকে জানানো হয়েছে, ঈদের আগে সর্বোচ্চ ৮ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করা সম্ভব।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরোনো নকশার ছবিযুক্ত নোট বাজারে ছাড়তে চাইলে চাহিদার চেয়ে বেশি সরবরাহ করা সম্ভব। শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিযুক্ত অর্ধপ্রস্তুত অবস্থায় ১৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বিপরীতে নতুন নকশার নোটের জন্য কাগজ-কালি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে সময়স্বল্পতার কারণে এই নোট ছাপা শেষ করে ঈদের আগে বাজারে দেওয়া সম্ভব হবে না বলে জানান কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী নতুন নকশার নোট আনতে কিছুটা সময় লেগেছে। যে কারণে বাজারে নোটের সংকট তৈরি হয়। তিনি বলেন, সাধারণভাবে ছেঁড়া-ফাটা বা ত্রুটিযুক্ত নোট বাজার থেকে তুলে পুড়িয়ে ফেলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে তা করতে না পারায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে শিগ্গিরই ব্যাংকগুলোকে নতুন টাকা দেওয়া শুরু হবে। ফলে এ সংকট আর থাকবে না।

নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।