দেশের বিমানবন্দরে সারচার্জ কমল ৭২ থেকে ১৪.২৫ শতাংশে, এভিয়েশন খাতে স্বস্তি
- আপলোড সময় : ০৫-০৩-২০২৬ ১১:১৬:১০ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৫-০৩-২০২৬ ১১:১৬:১০ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৫৩ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
প্রায় তিন দশকের প্রত্যাশার পর দেশের বিমানবন্দর ব্যবহারে আরোপিত উচ্চ সারচার্জ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৭২ শতাংশ সারচার্জ কমিয়ে ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ দেশের এভিয়েশন খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং এতে বিমান সংস্থাগুলোর আর্থিক চাপ কিছুটা কমবে।
বিমানবন্দর রানওয়ে ব্যবহার, কন্ট্রোল রুম সেবা, বিমান পার্কিং এবং টার্মিনাল সুবিধার ওপর বিভিন্ন দেশে নির্ধারিত সারচার্জ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। যেমন ভারতে এটি ১২ থেকে ১৮ শতাংশ, ওমানে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরে ৮ শতাংশ এবং পাকিস্তানে মাত্র ২ শতাংশ। সেখানে বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে এই হার ছিল ৭২ শতাংশ, যা দেশীয় বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য বড় আর্থিক চাপ হিসেবে দেখা দেয়। ফলে কয়েকটি বিমান সংস্থা কার্যক্রম বন্ধ করতেও বাধ্য হয়।
দীর্ঘদিন ধরে এয়ারলাইন্সগুলোর পক্ষ থেকে সারচার্জ কমানোর দাবি জানানো হলেও পূর্ববর্তী সরকারগুলো বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ২০২৬ সালে এসে বিষয়টি আমলে নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। বিমান মন্ত্রণালয়ের বিধিমালা সংশোধনের মাধ্যমে দেশের সাতটি বিমানবন্দর ব্যবহারে সারচার্জ এক ধাপে কমিয়ে ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত তাদের জন্য স্বস্তির বার্তা। ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক মো. কামরুল ইসলাম জানান, প্রায় ২৯ বছর ধরে সারচার্জ কমানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা। বর্তমান সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে এয়ারলাইন্সগুলোর টিকে থাকা সহজ হবে এবং বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত সারচার্জ দেশের এভিয়েশন শিল্প সম্প্রসারণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, অতীতে জিএমজি, ইউনাইটেড ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজের মতো বড় এয়ারলাইন্স বন্ধ হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল এই উচ্চ সারচার্জ। এত বড় পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ বহন করা অনেক এয়ারলাইন্সের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।
নতুন সিদ্ধান্ত চলতি বছর থেকেই কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সারচার্জ কমলেও এর সরাসরি প্রভাব বিমান টিকিটের দামে পড়ার সম্ভাবনা কম। কারণ এতে মূলত এয়ারলাইন্সগুলোর আর্থিক সক্ষমতা কিছুটা বাড়বে।
বর্তমানে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোর মোট বকেয়া দেনা প্রায় ৭ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৭৮ শতাংশই সারচার্জ হিসেবে জমা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।