ঢাকা , সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ , ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এলপিজি গ্যাসের দামে বড় লাফ: ১৮ দিনে ১২ কেজির সিলিন্ডারে বাড়ল ৫৯৯ টাকা বুধবারের মধ্যে চুক্তি না হলে ইরানে ফের হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের জিলকদের চাঁদ দেখা গেল আমিরাতে, ঈদুল আজহা হতে পারে ২৭ মে সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৫৭ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ ময়মনসিংহ মেডিকেলে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, ৭ দিন ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত, হল ছাড়ার নির্দেশ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বাধা: মাঝপথ থেকে ফিরল বাংলাদেশি জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ তীব্র গরমে লোডশেডিংয়ের দাপট: গ্রামে বিদ্যুৎ থাকছে না ১০ ঘণ্টাও শুক্রবার রাতেই শুরু হজযাত্রা, প্রথম ফ্লাইটে যাচ্ছেন ৪১৯ যাত্রী অবৈধভাবে মজুদ ১২০০ লিটার পেট্রোলসহ তিনজন গ্রেফতার ২১ এপ্রিল থেকে অনলাইন পাঠদান শুরু হচ্ছে ইরানের সব স্কুলে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬: ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দিচ্ছেন তারেক রহমান ১ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’: সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশজুড়ে শুরু হলো প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা: প্রথম দিনে বাংলা পরীক্ষা তেজগাঁওয়ে ঢাবির বাস দুর্ঘটনায় একাধিক শিক্ষার্থী আহত, হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে ইসরায়েল ও লেবানন পরবর্তী আলোচনায় বসতে সম্মত ইরানের সঙ্গে গোপন চুক্তির গুজব উড়িয়ে দিল কাতার জ্বালানি সাশ্রয়ে মাঠ পর্যায়ের সভা এখন ভার্চুয়ালে: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা নববর্ষে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু, টাঙ্গাইলে উদ্বোধন করলেন তারেক রহমান ১৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম থেকে শুরু হচ্ছে প্রথম হজ ফ্লাইট: সব প্রস্তুতি সম্পন্ন আফগানিস্তানে পিকনিক স্পটে গুলি, নিহত বেড়ে ১১

ইবি অধ্যাপিকাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

  • আপলোড সময় : ০৫-০৩-২০২৬ ০৮:২০:৩৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৫-০৩-২০২৬ ০৮:২০:৩৮ পূর্বাহ্ন
ইবি অধ্যাপিকাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ অফিস কক্ষে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ অফিস কক্ষে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ফজলুর রহমান নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। ওই শিক্ষিকার ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকার শুনে কক্ষের দরজা ভেঙে তাদের উদ্ধার করেন আনসার সদস্য ও শিক্ষার্থীরা। 
 
বুধবার (৪ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।
 
নিহত আসমা সাদিয়া রুনা কুষ্টিয়া শহরস্থ কোর্টপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। তার স্বামী কুষ্টিয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক মোহাম্মদ ইমতিয়াজ সুলতান। তিনি সংসার জীবনে তিন মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জননী ছিলেন। 
 
ঘটনার পর প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে নিয়ে যান। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফজলুর রহমানের অবস্থাও সঙ্কটাপন্ন বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা। 
 
জানা গেছে, সম্প্রতি আসমা সাদিয়া রুনা সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হওয়ার পর ফজলুর রহমানকে এক মাস আগে ওই বিভাগ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করেন। চাকরি জীবনের শুরু থেকে সমাজকল্যাণ বিভাগে থোক বরাদ্দে অস্থায়ীভাবে কর্মরত ছিলেন ফজলুর। এর জেরে কর্মচারী ফজলুর রহমান শিক্ষিকা রুনাকে ছুরিকাঘাত করতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন বিভাগের শিক্ষকরা।
 
সমাজকল্যাণ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. হাবিব জানান, প্রায় ৮ বছর ফজলুর এই ডিপার্টমেন্টে থোক বরাদ্দের অস্থায়ী ভিত্তিতে যোগদান করেন। তারপর থেকে বিভিন্ন কারণবশত কর্মচারী ফজলুর রহমান সবার সাথেই মাঝে মধ্যে খারাপ আচরণ করতো। যার কারণে আমরা সবাই তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করি। তবে ফজলু আমাদের কাছে এসে দীর্ঘদিনের কর্মজীবনের কথা বলে সমাজকল্যাণ বিভাগেই থাকতে চাইতো। সে আমাদের সবার কাছে এসে বিভাগের রাখার জন্য আবদার করত। 
 
তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে তাকে বলি তোমাকে এত সুযোগ দেওয়ার পরেও তুমি যেহেতু এখনো পর্যন্ত তোমার আচার-আচরণ কথাবার্তা সংযত করতে পারোনি। সেহেতু তুমি ওই ডিপার্টমেন্টে থাকো। পরে বিচার বিবেচনা করে দেখা যাবে। 
 
বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। প্রায় এক মাস আগে বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা- ওই ক্ষোভ থেকেই এ ঘটনাটি ঘটতে পারে।
 
শিক্ষার্থীরা জানান, আজ বিভাগটির ইফতার মাহফিল ছিল। সে কারণে বিকেল ৩টায় অফিস সময় শেষ হলেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকেল ৪টার দিকে বিভাগের সভাপতির নিজ কক্ষ থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে ভবনের নিচে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেন। একপর্যায়ে তিনজন শিক্ষার্থী, দুইজন আনসার সদস্য ও আরও দুজন মিলে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা আসমা সাদিয়ার রক্তাক্ত দেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন এবং ফজলুর রহমানকে নিজের গলায় অস্ত্র দিয়ে কাটার চেষ্টা করতে দেখেন। পরে শিক্ষার্থী ও কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও পার্শ্ববর্তী ইবি থানাকে খবর দেন। তারা ঘটনাস্থলে এসে দুজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠান।
 
কর্তব্যরত আনসার সদস্য আসমত আলী বলেন, আমরা ভবনের নিচে দুইজন মিলে গল্প করছিলাম। হঠাৎ করে আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ভবনের ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে দাঁড়িয়ে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজে নিজেই গলায় ছুরি চালাচ্ছেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।
 
 
ইবি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, আমরা ঘটনা জানতে পেরে তাদেরকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরজন অপারেশন থিয়েটারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তদন্ত করে পরে ঘটনা জানা যাবে।
 
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। সেখানে রক্তাক্ত অবস্থায় দুইজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। এমন সময় শিক্ষিকা রুনাকে নিথর অবস্থায় পাওয়া যায়।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নকিব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, আসলে এটা একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আমরা তার রুম পর্যবেক্ষণ করেছি। পুলিশ ও পিবিআই পর্যবেক্ষণ করেছে। 
 
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও আমরা তদন্ত কমিটির গঠন করছি। পুলিশ থেকেও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার করেছি।
 
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যানকে হত্যার ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। যারা উদ্ধার করেছে আমরা সকলের সাথে কথা বলেছি।  
 
তিনি বলেন, ওই ডিপার্টমেন্টে নিযুক্ত আনসার সদস্যদের কাছ থেকে জেনেছি ঘটনাটি ৪টার দিকের। ঘটনার সময় রুমের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। রুমের ভেতর থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে আনসার সদস্যরা কয়েকজন শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে দরজাটি ভেঙে শিক্ষকসহ দুইজনকেই রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে ।  
 
পুলিশ সুপার বলেন, আমরা সব কিছু বিবেচনা করে ঘটনাটি অধিকতর তদন্ত করছি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Kaler Diganta

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, ইউনিটে বাড়তে পারে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৮০ পয়সা

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, ইউনিটে বাড়তে পারে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৮০ পয়সা