যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে স্থলপথে কোনো সামরিক আগ্রাসন চালায়, তবে তা মার্কিন বাহিনীর জন্য ‘চরম বিপর্যয়’ ডেকে আনবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে (NBC News) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। আরাগচি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান কোনো যুদ্ধ চায় না, তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এমনকি সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্য ইরানি বাহিনী ‘অপেক্ষা করছে’ বলেও তিনি মন্তব্য করেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে এক নতুন উত্তেজনার স্তরে নিয়ে গেছে।
সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাগচি বলেন, “আমরা আত্মবিশ্বাসী যে আমাদের মাটি রক্ষা করতে পারব। তারা যদি আসার দুঃসাহস দেখায়, তবে সেটি হবে তাদের ইতিহাসের অন্যতম বড় বিপর্যয়।” আরাগচি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতি বা নতুন আলোচনার কোনো সম্ভাবনা নেই। তাঁর মতে, অতীতে দুইবার আলোচনার মাঝপথে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে, যার ফলে তেহরান এখন মার্কিন প্রশাসনের ওপর আস্থা হারিয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সিরিজ হামলার পরও ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামো সম্পূর্ণ অটুট রয়েছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও তিনি জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন নেতা নির্বাচন করা হবে এবং রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে।
এদিকে পেন্টাগন জানিয়েছে, বর্তমানে ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানোর কোনো আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা নেই। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ (CIA) ইরানের অভ্যন্তরে অস্থিরতা তৈরি করতে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কুর্দি বাহিনীকে অস্ত্র ও রসদ সরবরাহের চেষ্টা চালাচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি একে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত স্থলপথে অগ্রসর হয়, তবে তা কেবল ইরান নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘমেয়াদী এবং রক্তক্ষয়ী আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে।
ডেস্ক রিপোর্ট