সোমবার (১২ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় দুপুর ২টা থেকে তেহরানের এঙ্গেলাব স্কয়ার অভিমুখে জনস্রোত নামতে শুরু করে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান ছাড়াও কেরমান, জাহেদান, বিরজান্দ এবং সেমনানসহ প্রায় প্রতিটি প্রদেশে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ ও ‘ইসরাইল নিপাত যাক’ স্লোগানে রাজপথ মুখর করে তোলেন। মূলত সাম্প্রতিক ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ এবং বিদেশি মদদপুষ্ট অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে এই সমাবেশকে ‘গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে অভিহিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, গত মাসে অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে কিছু শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ শুরু হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উসকানিতে তা সহিংসতায় রূপ নেয়। গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে তারা জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর প্রকাশ্য সমর্থন দাঙ্গাকারীদের উৎসাহিত করেছে। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনি গত শুক্রবার এক ভাষণে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দেশ কোনোভাবেই ‘ভাঙচুরকারীদের’ কাছে মাথানত করবে না। একইভাবে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান দাঙ্গা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মধ্যে পার্থক্য টেনে নিরাপত্তার প্রশ্নে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন। সমাবেশে অংশ নেওয়া সাধারণ নাগরিকরা জানান, অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে তাদের উদ্বেগ থাকলেও, তারা বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপ বা দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি নষ্টের পক্ষে নন।
ডেস্ক রিপোর্ট