জাপানে খেলনা রিভলভার নিয়ে আতঙ্ক: ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়ার আলটিমেটাম
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ৩১-১২-২০২৫ ১২:০৭:১৭ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ৩১-১২-২০২৫ ১২:০৭:১৭ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৪৯ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
জাপানজুড়ে চীনানির্মিত ‘রিয়েল গিমিক মিনি রিভলভার’ (Real Gimmick Mini Revolver) নামক একটি খেলনা নিয়ে ব্যাপক আতঙ্ক ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্লাস্টিকের তৈরি রঙিন এই খেলনাগুলো সাধারণ ক্ল-মেশিনে (Crane Game) পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হলেও জাপানের জাতীয় পুলিশ সংস্থা (NPA) জানিয়েছে, এগুলো থেকে আসল গুলি ছোড়া সম্ভব। ফলে জননিরাপত্তার স্বার্থে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ১৫,৮০০টি খেলনা রিভলভার উদ্ধারে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে জানিয়েছে, আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫) এর মধ্যে খেলনাগুলো নিকটস্থ থানায় স্বেচ্ছায় জমা দিতে হবে। অন্যথায় ২০২৬ সাল থেকে এগুলোর অবৈধ দখলদারিত্বের জন্য কঠোর সাজার মুখে পড়তে হবে নাগরিকদের।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
তদন্তে দেখা গেছে, খেলনাটির ব্যারেল এবং হ্যামার মেকানিজম এমনভাবে তৈরি যা ছোট ক্যালিবারের আসল বুলেটের আঘাত সহ্য করতে সক্ষম। জাপানের ফরেনসিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে, সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি একটি প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্রে রূপান্তর করা সম্ভব। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে চীনের অন্তত ৭৮টি কোম্পানি ৩১টি প্রিফেকচারে এই খেলনাগুলো সরবরাহ করে। প্রাথমিকভাবে এগুলো শিশুদের জন্য নিরীহ মনে হলেও জাপানের কঠোর ‘আগ্নেয়াস্ত্র ও তলোয়ার নিয়ন্ত্রণ আইন’ (Firearms and Swords Control Law) অনুযায়ী এগুলো এখন ‘প্রকৃত আগ্নেয়াস্ত্র’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে পুলিশের এই কঠোর অবস্থানের কারণে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। দেশজুড়ে ১৫,৮০০টি খেলনা ছড়িয়ে থাকলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৪,০০০টির মতো উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অনেক অভিভাবক এই পরিস্থিতিকে একটি ‘আইনি ফাঁদ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, গেম সেন্টার থেকে জেতা একটি প্লাস্টিকের খেলনা যে কাউকে মুহূর্তেই ‘অবৈধ অস্ত্রধারী’ বা অপরাধী বানিয়ে দিতে পারে, যা সাধারণ মানুষের জন্য চরম উদ্বেগজনক। পুলিশ নাগরিকদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বেচ্ছায় জমা দিলে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তল্লাশিতে ধরা পড়লে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।