ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করেছে ভারত সরকার। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাকে ডেকে নেওয়া হয়। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, যা দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বরও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (বিএম) বি শ্যামের সঙ্গে বৈঠকের জন্য তলব করা হয়েছিল বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে। ধারাবাহিক এই তলবকে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অস্থিরতার অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দিল্লিতে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে ডেকে নয়াদিল্লি ও শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক স্থাপনায় সংঘটিত হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানায়। এসব ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রাঙ্গণ ও আবাসিক এলাকার বাইরে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পাশাপাশি ২২ ডিসেম্বর শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের ভিসা কেন্দ্রে উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর ভাঙচুরের বিষয়টি নিয়ে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, কূটনৈতিক মিশনের ওপর এ ধরনের পরিকল্পিত হামলা শুধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তাকেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলে না, বরং দুই দেশের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, শান্তি ও সহনশীলতার ভিত্তিক সম্পর্ককেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
বাংলাদেশ সরকার এসব ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের সব কূটনৈতিক মিশন ও কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে, আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতা অনুসারে ভারত সরকার কূটনৈতিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় দ্রুত ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ডেস্ক রিপোর্ট