বিশ্ববরেণ্য সুফি আলেম মাওলানা জুলফিকার আহমদ নকশবন্দির ইন্তেকাল
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১৫-১২-২০২৫ ১২:৩৪:৫৫ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৫-১২-২০২৫ ১২:৩৪:৫৫ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১১৭ বার পঠিত
ছবি-সংগৃহীত
বিশ্ববরেণ্য সুফি আলেম ও ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা জুলফিকার আহমদ নকশবন্দি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন)। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) পাকিস্তানের লাহোরে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তাঁর ইন্তেকালে বিশ্ব ইসলামী অঙ্গনে শোকের আবহ নেমে এসেছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৪
পারিবারিক সূত্র জানায়, আগামী সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় লাহোরে তাঁর প্রতিষ্ঠিত জামিয়া মাহাদুল ফকির আল-ইসলামী প্রাঙ্গণে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
মাওলানা জুলফিকার আহমদ নকশবন্দির জীবনপথ ছিল বহুমাত্রিক ও ব্যতিক্রমী। তিনি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা শেষে ১৯৭২ সালে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে ওই পেশায় কর্মজীবন শুরু করেন। একই সময়ে তিনি ক্রীড়াঙ্গনেও সক্রিয় ছিলেন—জিমন্যাস্টিকস, ফুটবল ও সাঁতারে নেতৃত্ব ও সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছিলেন।
তবে জীবনের প্রায় ৪০ বছর বয়সে এসে তিনি পেশাগত জীবন থেকে সরে দাঁড়িয়ে পুরোপুরি ধর্মীয় শিক্ষা ও দাওয়াহ কার্যক্রমে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি একাধারে কোরআনের হাফেজ, ইসলামী শিক্ষায় দীক্ষিত আলেম, পেশায় ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এবং নকশবন্দি তরিকার শায়খ হিসেবে এজাজতপ্রাপ্ত ছিলেন। এই বৈচিত্র্যপূর্ণ পরিচয় তাঁকে ইসলামী চিন্তাজগতে একটি স্বতন্ত্র অবস্থানে পৌঁছে দেয়।
আন্তর্জাতিক পরিসরেও তাঁর প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ৫০০ মুসলিম ব্যক্তিত্বের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। উর্দু ও ইংরেজি ভাষায় তিনি বিভিন্ন বিষয়ে মোট ১১৮টি গ্রন্থ রচনা করেন, যা বহু দেশে পাঠকসমাদৃত হয়েছে।
ইসলাম প্রচার ও শিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও আফ্রিকার ৫০টির বেশি দেশ সফর করেন এবং নিয়মিত বয়ান ও আলোচনায় অংশ নেন। তাঁর ইন্তেকালে বিভিন্ন দেশের আলেম, মাশায়েখ ও ইসলামী চিন্তাবিদরা গভীর শোক প্রকাশ করে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন। মুসলিম উম্মাহ একজন অভিভাবকসুলভ আলেম ও সুফি শায়খকে হারাল বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন তারা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।