পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে আবারও সশস্ত্র সংঘর্ষে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে ভারী গোলাগুলি হয়েছে, তবে এখনও কোনো হতাহতের খবর নিশ্চিত হয়নি। সৌদি আরবে ব্যর্থ শান্তি আলোচনার পর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এই গোলাগুলি হওয়ায় দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনার মধ্যে পড়েছে।
আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তান প্রথমে কান্দাহারের স্পিন বোলদাক এলাকায় তাদের অবস্থানে হামলা চালায়, যার জবাবে আফগান বাহিনী পাল্টা গুলি চালায়। অন্যদিকে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আফগান সেনারা চামান সীমান্ত এলাকায় ‘বিনা উস্কানিতে’ গুলি শুরু করায় তারা প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান নিতে বাধ্য হয়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দেশটি সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থায় আছে এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, শুক্রবার রাত স্থানীয় সময় সাড়ে ১০টার দিকে গোলাগুলি শুরু হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি হয়।
দুই দিন আগে সৌদি আরবে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের প্রতিনিধিদের মধ্যে শান্তি আলোচনা হলেও সেখান থেকে কোনো বড় ধরনের সমাধান আসেনি, শুধু নাজুক যুদ্ধবিরতি ধরে রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। এর আগে অক্টোবর মাসে সীমান্তে এক সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উভয় দেশের বহু সেনা ও বেসামরিক মানুষ নিহত হন; কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় সে সময় দোহায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
ইসলামাবাদ অভিযোগ করছে, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া আত্মঘাতী ও সন্ত্রাসী হামলার পেছনে আফগান ভূখণ্ডে আশ্রয় নেওয়া জঙ্গিগোষ্ঠী ও আফগান নাগরিকদের সংশ্লিষ্টতা আছে। তবে কাবুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য আফগানিস্তানকে দায়ী করা যায় না এবং তারা আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যা সমাধান করতে চায়।
ডেস্ক রিপোর্ট