আদিবাসীদের বেশির ভাগই ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে উপস্থিত হন এবং মানবশৃঙ্খলের বাইরে পরিবেশবাদী অন্যান্য সংগঠন দ্বিতীয় স্তরের সমর্থন জোগায়। গত চার দিনে এটিই দ্বিতীয়বার যখন আদিবাসী গোষ্ঠী কপ–৩০-এর কার্যক্রম ব্যাহত করল, যদিও আয়োজকেরা এবারের সম্মেলনকে আদিবাসীদের ক্ষমতায়নকে কেন্দ্র করেই সাজানো হয়েছে বলে দাবি করছেন।
বিক্ষোভ পরিচালনা করছে আমাজনের প্রভাবশালী মুন্দুরুকু আদিবাসী গোষ্ঠী। তারা ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভার সঙ্গে সরাসরি আলোচনার দাবি জানায়। লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়, কৃষি ব্যবসার স্বার্থে বন ও আদিবাসী জমি উৎসর্গ করা হবে না। আমাজনকে শিল্পকারখানা বা বড় কোম্পানির লাভের জন্য ধ্বংস করা যাবে না—তাঁরাই এই অঞ্চলের প্রকৃত রক্ষক।
মুন্দুরুকু নেতারা যে দাবি সামনে এনেছেন, তার মধ্যে রয়েছে—নদী উন্নয়ন পরিকল্পনা বাতিল, বন নিধনের আশঙ্কাজনক শস্যবাহী রেল প্রকল্প স্থগিত, আদিবাসী ভূমির স্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ এবং বন উজাড় থেকে পাওয়া কার্বন ক্রেডিট প্রত্যাখ্যান। বিক্ষোভের মুখে সম্মেলন অংশগ্রহণকারীদের শেষ পর্যন্ত বিকল্প প্রবেশপথ দিয়ে ঢোকার নির্দেশ দেওয়া হয়, এবং জাতিসংঘ দ্রুত ধাতব ডিটেক্টর সরিয়ে নতুন প্রবেশপথ চালু করে।
বিক্ষোভ শুরুর পরপরই সম্মেলনের সভাপতি ও অভিজ্ঞ কূটনীতিক আন্দ্রে করেয়া দু লাগো আদিবাসীদের সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান। আলাপের সময় এক আদিবাসী নারীর শিশুকে কোলে নিয়ে তিনি পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করেন। আলোচনার পর সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে বিক্ষোভকারীরা পথ ছেড়ে দেন। জাতিসংঘের জলবায়ু সংস্থা ঘটনাটিকে ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি ছিল না বলে জানিয়েছে।
জলবায়ু আন্দোলনকর্মী হরজিত সিং বলেন, কপ সম্মেলন ৩৩ বছরে বহুবার ব্যর্থ হয়েছে। তাই আদিবাসীরা এবার স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছেন—জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্যের প্রকৃত রক্ষক তারাই। এর আগে মঙ্গলবার আরেক ঘটনায় আদিবাসীরা সম্মেলন ভেন্যুর প্রধান দরজায় ধাক্কা দিলে দুই নিরাপত্তারক্ষী আহত হন।
ডেস্ক রিপোর্ট