বিচারকদের মনোনয়ন ও পদোন্নতির জন্য গঠিত প্রস্তাবিত কমিটিতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে অন্তর্ভুক্ত না করার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলের মতে, সরকারের নির্বাহী বিভাগের পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী অ্যাটর্নি জেনারেলের উপস্থিতি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) এনসিপির আইন সেলের মুখপাত্র ও যুগ্ম সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুনার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অবস্থান জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অ্যাটর্নি জেনারেল সরকারের পক্ষে আদালতে উপস্থিত থাকেন, তাই বিচারকদের বদলি ও পদোন্নতির মতো প্রশাসনিক বিষয়ে তার সম্পৃক্ততা ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ বা স্বার্থের সংঘাত তৈরি করবে। এতে বিচার বিভাগে নির্বাহী প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা বাড়বে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এনসিপি আরও জানায়, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে স্বাধীন বিচার বিভাগ গঠনই নতুন বাংলাদেশের পুনর্গঠনের অন্যতম ভিত্তি। সেইসঙ্গে বিচারকদের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির মতো অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রয়োজন—যাতে কোনো রাজনৈতিক বা নির্বাহী হস্তক্ষেপ না ঘটে। দলটির মতে, প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের খসড়ায় অ্যাটর্নি জেনারেলকে কমিটিতে রাখার প্রস্তাব বিচার বিভাগের মর্যাদা ও স্বাধীনতার পরিপন্থী।
বিজ্ঞপ্তির শেষাংশে এনসিপি দাবি করে, বিচারকদের বদলি ও পদোন্নতি সংক্রান্ত কমিটি থেকে অ্যাটর্নি জেনারেলকে অবিলম্বে বাদ দিয়ে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে কেবল বিচার বিভাগের সদস্যদের নিয়ে একটি স্বতন্ত্র ও স্ব-নিয়ন্ত্রিত কমিটি গঠন করতে হবে। তারা বিশ্বাস করে, বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতাই আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের মূল ভিত্তি—এবং সে লক্ষ্যেই এনসিপি অটল অবস্থান বজায় রাখবে।
ডেস্ক রিপোর্ট