ভেল্ডকাম্প গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তাব করেছিলেন। তবে জোট সরকারের অন্য দুই অংশীদার দল VVD (People's Party for Freedom and Democracy) এবং BBB (Farmer-Citizen Movement) এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করলে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। উল্লেখ্য, ভেল্ডকাম্প ইতিপূর্বে ডাচ সংসদে ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও জোট অংশীদারদের সাথে এ নিয়ে পূর্বাহ্নেই সমন্বয় করেননি।
NSC দলীয় নেতা ও উপপ্রধানমন্ত্রী এডি ভ্যান হিজুম এই পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে "আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সীমারেখা টানা" হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তার দলের সকল মন্ত্রীর প্রত্যাহারের ফলে স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলো নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে। জোটের অন্যান্য দল NSC-র এই সিদ্ধান্তকে "গভীর দায়িত্বজ্ঞানহীনতা" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
এই রাজনৈতিক সংকট এমন এক সময়ে দেখা দিয়েছে যখন গাজায় মানবিক সংকট চরমে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইসরাইলের সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত ৬২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং গোটা অঞ্চলটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা (UNRWA) এবং Integrated Food Security Phase Classification (IPC) স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে গাজায় ইসরাইলি নীতির ফলেই মনুষ্যসৃষ্ট দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি হয়েছে।
International Criminal Court (ICC) ইতিমধ্যেই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে, International Court of Justice (ICJ)-ও গাজায় গণহত্যার মামলা বিবেচনা করছে। নেদারল্যান্ডসের এই রাজনৈতিক সংকট আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে ইসরাইল নীতি নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। প্রধানমন্ত্রী ডিক শফের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার এখন গুরুতর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি