ইসলামের সঠিক পথ অনুসরণে সাহাবায়ে কেরামের আদর্শের গুরুত্ব
কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সাহাবিদের ঈমান, মর্যাদা ও অনুসৃত পথের গুরুত্ব।
- আপলোড সময় : ০১-১১-২০২৬ ১১:১৫:১১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০১-১১-২০২৬ ১১:১৫:১১ পূর্বাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ৪৬ বার পঠিত
প্রতীকী ছবি- ( সংগৃহীত)
সংগৃহীত: মুহতারম খাইরুল ইসলাম
(হানাফী ফিকহ ফেসবুক গ্রুপ থেকে)
রাসূল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরে এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম হলেন সাহাবায়ে কেরামের প্রজন্ম। কুরআন ও সুন্নাহর পর তাদের কথা ও কর্ম উম্মতের জন্য দলিল। কিয়ামত পর্যন্ত আগত সমগ্র মানুষের জন্য তারা সত্যের মাপকাঠি, হেদায়েতের আলোকবর্তিকা।
নবুওয়াতের দাওয়াত গ্রহণ ও প্রচারের জন্য নবিজি সাল্লল্ল-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথি হিসেবে আল্লাহ তা’আলা সাহাবায়ে কেরামের জামাতকেই নির্বাচন করেছেন। তাদের প্রতি নিজের রাজি-খুশির কথা স্পষ্ট করে ঘোষণা করেছেন।
সাহাবায়ে কেরাম সত্যের মাপকাঠি৷ কারণ তাঁদের মাধ্যম ধরেই আমরা দ্বীন পেয়েছি৷ কুরআন-সুন্নাহ পেয়েছি৷ তাঁদেরকে হকের মানদণ্ড না মানলে কুরআন-সুন্নাহর যেকোনো বিষয়ে সংশয় সৃষ্টি হওয়া সহজ হয়ে যাবে, যা ঈমানের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ৷
আয়াতে আল্লাহ তাআলা সাহাবায়ে কেরামকে ঈমান ও হেদায়াতের মানদণ্ড আখ্যা দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে,
‘‘অতএব তারা যদি ঈমান আনে, তোমাদের ঈমান আনার মতো, তবে তারা হেদায়াত পাবে। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তারাই হঠকারিতায় রয়েছে’’। (সুরা বাকারা ১৩৭)
সাহাবায়ে কেরামের ঈমানের গ্রহণযোগ্যতা এবং যারা সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে উপহাস করেছে, তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন,
‘‘যখন তাদেরকে বলা হয়, মানুষরা অর্থাৎ সাহাবীরা যেভাবে ঈমান এনেছে তোমরাও সেভাবে ঈমান আন। তখন তারা বলে আমরাও কি বোকাদের মতো ঈমান আনব? মনে রেখো, নিশ্চয়ই তারাই বোকা; কিন্তু তারা তা বোঝে না’’। [সূরা বাক্বারা-১৩]
রাসূল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
‘‘সাবধান!তোমরা আমার সাহাবীগণের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। আমার পরে তোমরা তাঁদেরকে (তিরস্কারের) লক্ষ্যবস্তু বানাইও না। যে ব্যক্তি তাঁদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করে সে আমার প্রতি ভালোবাসা বশেই তাঁদেরকে ভালোবাসে। আর যে ব্যক্তি তাঁদের প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করে সে আমার প্রতি বিদ্বেষবশত তাঁদের প্রতি শত্রুতা ও বিদ্বেষ পোষণ করে থাকে’’। [তিরমিযী-৩৮৬১, ইবনে হিব্বান, হাদিস ২২৮৪]
হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ রাযি. বলেন,
কেউ যদি কারো তরীকা অনুসরণ করতে চায় তাহলে বিগতদের তরীকাই তার অনুসরণ করা উচিত। কেননা জীবিত ব্যক্তি ফিতনার সম্ভাবনামুক্ত নয়। তাঁরা হলেন নবিজি স.-এর সাহাবা। হৃদয়ের পবিত্রতায়, ইলমের গভীরতায় এবং আড়ম্বরহীনতায় তাঁরা ছিলেন এই উম্মাহর শ্রেষ্ঠ জামাআত। আল্লাহ্ তাঁদেরকে আপন নবীর সঙ্গলাভ এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠার নিমিত্ত মনোনীত করেছিলেন। সুতরাং তোমরা তাঁদের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নাও এবং তাঁদের পথ ও পন্থা অনুসরণ করো। কেননা তাঁরা ছিলেন সরল পথের পথিক। [তাবাকাতে ইবনে সাআদ ১/৯]
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ. বলেন,
‘‘যদি কাউকে রাসূল সল্লাল্ল-হু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোনো সাহাবীর সমালোচনা করতে দেখো, তবে তার ইসলামের ব্যাপারে সংশয় পোষণ করো। [আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৮/১৪২]
ইমাম ইবনে হুমাম রহ. বলেন,
‘‘আহলুস-সুন্নাত ওয়াল-জামা’আতের আকীদা হলো, সমস্ত সাহাবায়ে কিরাম রাযি. কে পূত ও পবিত্র মনে করা, তাঁদের উপর আপত্তি উত্থাপন থেকে বেঁচে থাকা এবং তাদের প্রশংসা করা ওয়াজিব। [মুসায়েরা- ১৩২পৃঃ]
এ জন্য ফিকহের ইমামগণ কুরআন-সুন্নাহর পরেই নিজের ইজতিহাদ ও মতামতের আগে সাহাবায়ে কেরামের বক্তব্যকে হকের মানদণ্ড মনে করতেন৷ শরীয়তের দলিল মানতেন৷
তাই ইসলামের সঠিক পথ নির্ণয়ের মাপকাঠি হলো, সাহাবায়ে কেরাম রাযি. এর অনুসৃত পথের অনুসরণ। যুগে যুগে যারাই সাহাবায়ে কেরাম রাযি. এর পথ থেকে দূরে সরে গিয়েছে, তারাই গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট হয়েছে। হক ও বাতিলের মাঝে পার্থক্যকারী হলেন সাহাবায়ে কেরাম।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।