নোবিপ্রবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত
১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে হাদি হত্যার বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও শাপলা-পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দাবিতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
- আপলোড সময় : ০১-১১-২০২৬ ০৯:০০:৪৬ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০১-১১-২০২৬ ০৯:০০:৪৬ পূর্বাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ২৫ বার পঠিত
ছবি: প্রতিনিধি
শহিদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাই, পিলখানা ও শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকাল ৫ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে নেতাকর্মীরা ‘বাংলাদেশের আজাদি, উসমান হাদী’, ‘তুমি কে আমি কে, হাদি হাদি’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন ভারতে’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং সদস্য সচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা। এছাড়া জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনকিলাব মঞ্চের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরাও এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে নোবিপ্রবি কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, “তিন দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট থেকে টেকনাফের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত পদযাত্রা শুরু করেছি আমরা। আমাদের তিন দফা দাবিগুলো হলো— ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার, জুলাইয়ের গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং শাপলা, পিলখানা ও জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা।”
তিনি আরও জানান, এই দাবিগুলো শুধু ইনকিলাব মঞ্চের নয়, বরং দেশের মানুষের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কোনো ধরনের আপস ছাড়াই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সভায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, “গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি, প্রশ্নফাঁস, বিচারহীনতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি থেকে দেশকে বের করে আনতে হবে। প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তির পরিবর্তে বদলির মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে।”
শহীদ ওসমান হাদী হত্যার বিচার দাবি করে তিনি বলেন, “আগামী ডিসেম্বরে আমাদের ভাই শহীদ ওসমান হাদী হত্যার এক বছর পূর্ণ হতে চলল। এমন কোনো পথ বা মাধ্যম বাকি নেই, যেখানে গিয়ে আমরা এই হত্যার বিচার চাইনি। অথচ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রে নিজ দেশের একজন নাগরিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর, বিচারের জন্য আমাদের রাস্তায় রাস্তায় ভিক্ষুকের মতো ঘুরতে হচ্ছে!”
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সকালে চোখ ডলতে ডলতে বলেন যে, নাকি গত আট মাসে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনেক উন্নয়ন হয়েছে! উনার আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন কেমন, তা আমরা দেখতেই পাচ্ছি। উনার নিজের আসনেই দিনে-দুপুরে ৫০টি বাস থামিয়ে ডাকাতি হয়! একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্টের লাশ নদীতে ভেসে ওঠে! মিরাজ শেখ আজ ২০৪ দিনেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ, অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বুক ফুলিয়ে বলছেন যে গত আট মাসে নাকি বাংলাদেশে একজন মানুষও নিখোঁজ হয়নি! আমরা বলে দিতে চাই—সংসদে বসে সবাইকে সংবিধানের পাঠ শেখানো এই মহা-পণ্ডিতদের, জনগণ সামনে নিজেই বসিয়ে সংবিধান মুখস্থ করিয়ে ছাড়বে, ইনশাআল্লাহ।”
এসময় আগামী ডিসেম্বরে শহীদ ওসমান হাদী হত্যার বিচারের দাবিতে শাহবাগের আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং ইনকিলাব মঞ্চের সাথে একাত্মতা পোষণের আহ্বান জানান তিনি।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।