ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ , ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) , ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আরও ৩৫৩ জন আটক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি শেষে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সুপারিশ তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ে প্রস্তাব ৪ বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ভারত বাণিজ্য বৈঠক শেষ আজ, আলোচনায় শুল্ক ও বাণিজ্য ঘাটতি রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত বিক্রিয়া শুরু বিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ এশিয়ার বাজারগুলোতে বাড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি অবসরভাতা পেতে শিক্ষকদের ভোগান্তি বন্ধের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশকে খাদ্য নিরাপত্তায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক পাকিস্তান ও ভারতীয়দের তুলনায় বাংলাদেশিদের গড় আয়ু বেশি: WHO যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী কেন সম্ভাব্য মার্কিন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে কানাডা? অক্টোবরে বেতনের সঙ্গে ৩ মাসের বকেয়া পেতে পারেন সরকারি চাকরিজীবীরা রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান মিয়ানমারেই হতে হবে: তারেক রহমান দক্ষিণ এশিয়ায় ভয়াবহ খাদ্যসংকটের আশঙ্কা প্রকাশ এস জয়শঙ্করের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নতুন জ্বালানি আজ দেশে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া দুই ঈদকে সরকারি ছুটির স্বীকৃতি ইরানকে ঘিরে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি মদিনার বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার অভিযোগ সৌদি জোটের,হুতিদের অস্বীকার পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপকূলে ভরা মৌসুমেও মিলছে না ইলিশ

ঘরে বা পোশাকে প্রাণীর ছবি রাখা কি জায়েজ? ইসলামী শরীয়তের নির্দেশনা

ঘরে প্রাণীর ছবি টাঙানো, ছবিযুক্ত পোশাক পরা এবং এ অবস্থায় নামাজ আদায়ের শরয়ী বিধান নিয়ে হাদিস ও ফিকহের আলোকে বিস্তারিত আলোচনা।

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ২৫-০৯-২০২৬ ১১:১১:২৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৫-০৯-২০২৬ ১১:১১:২৬ পূর্বাহ্ন
  • ৩ মিনিট পড়ার সময়
  • ১৭৭ বার পঠিত
ঘরে বা পোশাকে প্রাণীর ছবি রাখা কি জায়েজ? ইসলামী শরীয়তের নির্দেশনা প্রতীকী ছবি- ( সংগৃহীত)
সংগৃহীত: Khairul Islam (হানাফী ফিকহ ফেসবুক গ্রুপ থেকে) ইসলামী শরীয়তে কোনো প্রাণীর দৃশ্যমান ছবি টাঙানো বা দৃশ্যমান রাখা নাজায়েয। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,'ফেরেশতাগণ এমন ঘরে প্রবেশ করেন না যে ঘরে কোনো প্রাণীর ছবি বা প্রতিকৃতি আছে। সহীহ মুসলিম, হাদীস ২১১২

অন্য বর্ণনায় এসেছে, জাবের রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে ছবি রাখতে ও ছবি অঙ্কন করতে নিষেধ করেছেন। (জামে তিরমিযী, হাদীস ১৭৪৯)

মহানবী (সা.) ছবির ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করার পাশাপাশি বাস্তব জীবনেও তিনি এর কঠোর বাস্তবায়ন ঘটিয়েছেন।

হাদিস শরিফে এসেছে, আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) এক সফর থেকে ফিরে আসেন। (এসে তিনি দেখতে পান) আমি ছবিযুক্ত একটি (দেয়ালের) পর্দা টাঙিয়েছি। তিনি আমাকে তা সরিয়ে নিতে বলেন। অতঃপর আমি তা সরিয়ে ফেলি। (বুখারি শরিফ : হা. ৫৯৫৫)

ইসলামী শরিয়তে, কোনো প্রাণীর ছবিযুক্ত পোশাক পরিধান করা হারাম। তবে প্রাণহীন বস্তু যেমন—বৃক্ষ, পাহাড়, ঝরনা ইত্যাদির ছবি বৈধ। (আল-বাহরুর রায়েক : ২/২৯, মেরকাতুল মাফাতিহ : ৪৪৮৯)

অনেকে মনে করেন, ছবিযুক্ত পোশাক পরিধান করা শুধু নামাজের ক্ষেত্রে হারাম! ফলে তারা নামাজের সময় এ ব্যাপারে খেয়াল রাখলেও অন্য সময় উদাসীন থাকেন। অথচ এটা তাদের ভ্রান্ত ধারণা। সর্বাবস্থায় ছবিযুক্ত পোশাক পরিধান করা হারাম। তবে হ্যাঁ, নামাজে এমন পোশাক পরিধান করা গর্হিত অপরাধ।

‘খোলাসাতুল ফাতাওয়া’ নামক কিতাবে উল্লেখ রয়েছে, কোনো ছবিযুক্ত কাপড় দিয়ে নামাজ আদায় করা হোক বা না হোক, উভয় অবস্থায় তা মাকরুহে তাহরিমি বা হারাম। (আল-বাহরুর রায়েক : ২/২৯)

ঘরে প্রাণীর ছবি থাকাবস্থায় নামায
শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে যে ঘরে কোনো প্রাণীর ছবি দৃশ্যমান থাকে তাতে নামায পড়া মাকরূহ। অবশ্য নামাযের সময় ছবি ঢাকা থাকলে নামায মাকরূহ হবে না। এমনিভাবে নামাযী ব্যক্তির সামনে ডানে বা বামে যদি কোনো প্রাণীর ছবি এভাবে থাকে যে, নামাযী ব্যক্তি তা দেখতে পায় তাহলে নামায মাকরূহ হবে। তাই ইচ্ছাকৃতভাবে এমন জায়গায় দাঁড়াবে না যেখানে কোনো প্রাণীর ছবি দৃশ্যমান রয়েছে। তবে নামায মাকরূহ হলেও তা আদায় হয়ে যাবে। পুনরায় পড়তে হবে না।

কিন্তু যদি প্রাণীর ছবিযুক্ত পোশাক নিয়ে কোনো ব্যক্তি নামাযীর সামনে বা পাশে এসে দাঁড়ায় তাহলে এর জন্য নামাযী ব্যক্তি দায়ী হবে না এবং তার নামায মাকরূহ হবে না। এক্ষেত্রে যে ঐ পোশাক পরেছে তার গুনাহ হবে।

প্রাণীর ছবিযুক্ত জামা গায়ে দিয়ে নামায
জামা কাপড়ে প্রাণীর ছবি দৃশ্যমান থাকলে তা পরিধান করে নামায পড়া মাকরূহ তাহরীমী। তবে নামায মাকরূহ হলেও তা আদায় হয়ে যাবে। পুনরায় পড়তে হবে না। আর ছবিযুক্ত জামা-গেঞ্জি পরে মসজিদে আসা আরো মারাত্মক অন্যায়। এতে মসজিদের পবিত্রতা ও আদব নষ্ট হয় এবং এ কারণে অন্য মুসল্লিদের নামাযও মাকরূহ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

আর প্রাণীর ছবির ক্ষেত্রে শুধু চোখ কেটে বা মুছে দেওয়া যথেষ্ট নয়। শুধু চোখ মুছে দেওয়ার দ্বারা তা ছবির হুকুম থেকে বেরিয়ে যায় না। তাই স্পষ্ট ছবির পুরো চেহারা মুছে দেওয়া জরুরি। অবশ্য ছবি যদি এত ছোট হয় যে, তা নিচে থাকাবস্থায় দাঁড়িয়ে দেখলে চেহারা বুঝা যায় না, তাহলে সে ছবির চেহারা মোছা বা কাটা জরুরি নয়। তবে সম্ভব হলে এ ধরনের ছবির চেহারাও মুছে দেওয়া ভালো। -বাদেউস সানায়ে ১/১১৫, খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৫৮, ফাতহুল কাদীর ১/৩৬৩

উল্লেখ্য যে, স্বাভাবিক অবস্থাতেই প্রাণীর দৃশ্যমান ছবি সম্বলিত পোশাক পরা মাকরূহে তাহরীমী। আর এ ধরনের পোশাক পরে নামায পড়া এবং মসজিদে আসা ও অন্যের নামাযের ক্ষতি করা তো আরো গুনাহের কাজ। তাই এধরনের পোশাক পরিধান করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

তাই একজন মুসলিম হিসাবে আমাদের সকলের কর্তব্য হলো, মানুষ বা জীবজন্তুর যত ছবি ঘরে টাঙানো আছে তা নামিয়ে ফেলা এবং তা নষ্ট করে ফেলা।


নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১২

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।