রাজধানীর মিরপুর রোড এলাকায় বিস্ফোরিত বিতরণ লাইনের ক্ষতিগ্রস্ত ভাল্ভ প্রতিস্থাপনের কাজ শেষ হলেও গ্যাসের স্বল্পচাপ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগবে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। ধাপে ধাপে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও নেটওয়ার্কে চাপ স্থিতিশীল হতে সময় প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছে।
শনিবার দুপুরের পর প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত ভাল্ভটি নতুন ভাল্ভ দিয়ে প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে পুনরায় চালু করা হচ্ছে। তবে পুরো নেটওয়ার্কে চাপের ভারসাম্য ফিরে পেতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, ফলে সাময়িকভাবে গ্রাহকদের ভোগান্তি অব্যাহত থাকতে পারে।
নেটওয়ার্কের চাপ সমন্বয় একটি ধীর প্রক্রিয়া উল্লেখ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, এই সময়ে গ্রাহকদের যে অসুবিধা হচ্ছে, সে জন্য তারা দুঃখিত। একই সঙ্গে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি কাজ অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে তুরাগ নদীর তলদেশ দিয়ে যাওয়া একটি গ্যাস পাইপলাইনে ক্ষতির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস স্বল্পচাপ তৈরি হয়। তিতাসের তথ্যমতে, গত রোববার নদীপথে চলাচলকারী একটি জাহাজের নোঙরের আঘাতে ওই পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পর থেকেই ঢাকার বিস্তীর্ণ এলাকায় গ্যাস সরবরাহে মারাত্মক ব্যাঘাত দেখা দেয়।
শীত মৌসুম এলেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ার অভিযোগ থাকলেও সাম্প্রতিক কারিগরি সমস্যাগুলো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কোথাও চুলা একেবারেই জ্বলছে না, আবার কোথাও গভীর রাতে সীমিত সময়ের জন্য অল্প চাপ পাওয়া যাচ্ছে বলে গ্রাহকদের অভিযোগ।
এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি ও ছোট খাবারের দোকানগুলো। রান্না ব্যাহত হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান আংশিকভাবে ব্যবসা চালাতে বাধ্য হচ্ছে। বাসাবাড়িতে কেউ বৈদ্যুতিক চুলার ওপর নির্ভর করছেন, আবার কেউ বিকল্প হিসেবে বাইরে থেকে খাবার সংগ্রহ করছেন।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কারিগরি ত্রুটি পুরোপুরি সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং যত দ্রুত সম্ভব গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
ডেস্ক রিপোর্ট